ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে রোহিত শর্মার তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরির দিনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ১৪১ রানের জয় পেয়েছে ভারত। তিন ম্যাচ সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। প্রথম ম্যাচ সাত উইকেটে জিতেছিল লঙ্কানরা। শেষ ম্যাচ ১৭ ডিসেম্বর।
বৃহস্পতিবার মোহালিতে টস জিতে আগে ফিল্ডিং নিয়েই মরণ ডেকে আনেন থিসারা পেরেরা। ধাওয়ান-রোহিত জুটি ১১৫ তুলে বিচ্ছিন্ন হয়। ধাওয়ান ৬৭ বলে ৬৮ করে ফিরে যান। ৯টি চারের মারের সাহায্যে এই রান করেন তিনি।
পরের জুটিতে রীতিমতো তাণ্ডব চালান কোহলির অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্ব পাওয়া রোহিত। ৬৫ বলে প্রথম অর্ধশতকে পা রাখেন। শতকে যেতে বল খেলেন ১১৫টি। পরের পঞ্চাশ করেন ১৮ বল খেলে। ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ১৫১টি বল মোকাবিলা করে।
রোহিত চূড়ান্ত তাণ্ডব চালান মূলত শেষ ২৭টি বলে। এই সময়ে ১১টি ছয় আর তিনটি চারে ৩৪১ স্ট্রাইকরেটে ৯২ রান তোলেন! যেখানে প্রথম ১২৬ বল থেকে করেছিলেন ১১৬ রান।
‘অতিমানব’ রোহিতের ২০৮ রানে অপরাজিত থাকার এমন দিনে তেইশ বছরের শ্রেয়াশ দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমেই ৮৮ রান করেন। ৭০ বলে এই রান করেন। প্রথম ম্যাচে করেছিলেন ৯। এদিন ৯টি চারের পাশাপাশি দুটি ছয় হাঁকান। ভারত শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে চার উইকেটে ৩৯২ রান সংগ্রহ করে। এই নিয়ে ১০০ বার ৩০০ কিংবা তার বেশি রানের স্কোর গড়ে ভারত। ওয়ানডে ইতিহাসে এতবার এমন স্কোর কোনো দল করতে পারেনি। ৯৬ বার আছে অস্ট্রেলিয়ার। জবাব দিতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেট হারিয়ে ২৫১ রানে ৫০ ওভার শেষ করে।
দলীয় ১৫ রানের মাথায় থারাঙ্গাকে হারিয়ে শুরু করে দলটি। এরপর ইনিংস টেনে নেন ম্যাথিউস। সম্মানজনক হারের লড়াইটা মূলত তিনি একাই করেছেন। ১৩২টি বল খেলে ১১১ রানে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুনারত্নের, ৩৪। আর কেউ ত্রিশের ঘরে পা দিতে পারেননি!
লঙ্কান বোলারদের মধ্যে বেশি ধকল গেছে নুয়ান প্রদীপের ওপর দিয়ে। ১০ ওভারে ১০৬ রান দিয়ে উইকেটহীন তিনি। যা ওয়ানডে ক্রিকেটর ইতিহাসে এক ইনিংসে কোনো বোলারের দেয়া তৃতীয় সর্বোচ্চ রান। পেরেরা ৮ ওভারে ৮০ খরচ করলেও তিনটি উইকেট নিয়েছেন। অবাক করার বিষয় হলো ম্যাথিউস ৪ ওভার বল করে ৯ রান দিয়ে আর আক্রমণে আসেননি। একটি মেডেনও ছিল তার।
ভারতীয় দলে এদিন অভিষেক হয় ওয়াশিংটন সুন্দরের। ১৮ বছরের এই বাঁহাতি অফস্পিনার ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৬৫ রান দিয়ে লাহিরু থিরিমান্নেকে ফেরান (২১)।










