রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেছিলেন। দুটি পৃথক ব্রিফিংয়ের শুরুতে ওআইসি জোটের বাইরের দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের ও পরে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আলোচনায় বসেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে অগ্রগতির অংশ হিসেবে প্রত্যাবাসনের অ্যারেঞ্জমেন্ট, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং ভৌত অবকাঠামোর পর এখন পরিবার ভিত্তিক যাচাই ফর্মপূরণের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানোর কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন: সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। এখন রোহিঙ্গা পরিবার ভিত্তিক ভেরিফিকেশন ফর্ম পূরণ করা শুরু হয়েছে। পরিবারের প্রধান এই ফর্মে তার পরিবারের সদস্যদের নাম-তথ্যাদি লিখবেন। প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকতে ইউএনএইচসিআর এর সমঝোতাও প্রায় চূড়ান্ত। মিয়ানমারও শীঘ্রই এটা করবে। ভারত, চীন, জাপান রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে মিয়ানমারও রাজি হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিফিং শেষে যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা ইতিবাচক বক্তব্য রেখে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে সম্ভাব্য সহযোগিতার কথা জানান। তবে এশিয়ার অন্যমত আরেক পরাশক্তি ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে অন্ধের মতো মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে যাওয়া চীনের প্রতিনিধি পুরোপুরি চুপ ছিলেন। বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত ইয়াং হি লি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আছেন, সেখানে তিনি দেশে আগত নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন। এছাড়া বিশ্বব্যাংকও আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি একটি মিশ্র অবস্থার মধ্যে দিয়ে চলছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। মাত্র কয়েকমাসের মধ্যে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বন্যার পানির মতো দেশে প্রবেশ করলেও তাদের ফিরে যাওয়াটা চীনের প্রাচীরের মতো যে শক্ত, তা আমাদের বুঝতে খুব একটা কষ্ট হচ্ছে না। আমাদের আশাবাদ, অব্যাহত চাপ আর কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান হোক।









