মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয় ও জীবন বাঁচাতে বন্যার পানির মতো বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে বহুল আলোচিত একটি বিষয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছে। পশ্চিমা ও বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক গণমাধ্যমে বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত, প্রকাশিত ও প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু উদ্বেগের সঙ্গে সঙ্গে গর্বের বিষয়: এই বিপর্যয় সামাল দেবার দায়িত্ব এসে পড়েছে বাংলাদেশের উপরে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি মনোযোগে এই সমস্যা সমাধানের কাজ চলছে। রোহিঙ্গা প্রবেশে কোনো ধরণের বাধা না দিয়ে তাদের প্রবেশ ও আশ্রয় দানের বিষয়টি করা হচ্ছে বেশ সুশৃঙ্খলভাবে। ২০০০ একর জমিতে তাদের অস্থায়ী আবাস তৈরি ও বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের মতো কার্যকর ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে দ্রুততার সঙ্গে। এসব কাজ হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশ ও অনুমোদনের পরেই। সেইসঙ্গে সারাবিশ্বে জনমত তৈরি ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সর্ম্পক বজায় রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। ১৯৯৪ সালেও বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছিলেন মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে। অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে তিনি সেই ১৯৯৪ সালেও ছিলেন, এই ২০১৭তেও আছেন। রোহিঙ্গা পরিস্থিতিতে যেসব দেশ দূরে থেকে বাংলাদেশকে নানা প্রেসক্রিপসন দিচ্ছে, সুপারিশ করছে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বাংলাদেশ নিজের মতো করে কার্যকর চেষ্টা করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সমস্যা যে স্বল্পকালীন সমস্যা না এবং এ সমস্যা মোকাবিলায় অনেক ভেবেচিন্তে কাজ করতে হবে, তা বিভিন্ন সমালোচক ও শুভাকাঙ্খিদের বোঝা উচিত বলে আমরা মনে করি। স্ব-ক্ষমতায় বিভিন্ন পরিস্থিতি সামাল দিতে অতীতে শেখ হাসিনা যেমন দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, এবারও হয়তো তিনি এই রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন বলে আমাদের আশাবাদ। মানবতার জয় হোক।









