সরকারি ব্যাংক মানেই চুরি, লুটপাট আর অনিয়ম; এই কলঙ্ক থেকে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংককে মুক্ত করার মিশন ঘোষণা করেছেন নতুন ৩ ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সোনালী, রূপালী ও অগ্রনী ব্যাংকে দায়িত্ব পেয়ে সকলেই বলেছেন, ব্যাংকের যেসব সূচক দুর্বল সেগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছেন প্রথম দিন থেকেই। আগামী ৩ বছরে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের হারানো গৌরব ফিরিয়েও আনতে চান তারা।
ব্যাংকিং খাতে এই সরকারের দুই মেয়াদে অসংখ্য সফল উদ্যোগ রয়েছে। ব্যাংকিং সেবাকে তৃণমূলের মানুষের কাছে নিতে অসংখ্য মানবিক উদ্যোগ রয়েছে। আবার ক্ষমতাবানদের নাম ভাঙ্গিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করার বেশ কয়েকটি বড় নজিরও রয়েছে ব্যাংকিং খাতে। হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপের জালিয়াতি, বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুর স্বেচ্ছাচারিতা ম্লান করেছে সরকারের অনেক সাফল্য। সোনালী, রূপালী এবং অগ্রণী ব্যাংকের নতুন ৩ ব্যবস্থাপনা পরিচালকই সতর্ক অতীতের কেলেংকারির বিষয়ে।
সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, আমার প্রথম কাজই হবে সোনালী ব্যাংকের এখন কি আছে সেদিকে নজর দেওয়া এবং আরেকটি হলো আমি কোথায় যেতে চাই। আমি খুবই আশাবাদী এই কারণে যে সোনালী ব্যাংকে দুই-তিনটি দুর্ঘটনা ঘটার পরও ব্যাংকটি পড়ে যায়নি। সারা দেশে ক্রিমিনালের সংখ্যা ১ পার্সেন্টও না। কিন্তু এই ১ পার্সেন্টকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই সমস্ত অফিস-আদালত, কোর্ট-কাছারি, আইন।
দায়িত্ব নিয়েই প্রথম দিনে পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান। সহকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, সবগুলো ব্যাংকের অবস্থা যে খুবই ভালো তা বলা যাবে না। তবে ননপারফর্মিং লোনগুলোকে কিভাবে পারফর্মিং করা যায় সেই কাজটাকেই অগ্রাধিকার দেবো। একই সময়ে যেহেতু আমরা আইটিতে যাচ্ছি সুতরাং এসব ক্ষেত্রে ঝুঁকি অ্যাড্রেস করা যায় কিনা বা কত সঠিকভাবে অ্যাড্রেস করা যায় সেটাই হবে প্রথম কাজ।
অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক দু জায়গা থেকেই সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এটিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চান তিনি।
অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস উল ইসলাম বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে এই ব্যাংকটির অবস্থা সুখকর নয়। অবশ্যই এই ব্যাংকটির ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে। আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ঋণখেলাপি। সেটা মোকাবেলায় সবার সহায়তা নিয়ে এগিয়ে যাবো। এখন আমরা সবাই এই ব্যাংকগুলোকে সঠিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার যুদ্ধে নিবেদিত। তাই ফুল নয় বরং সবার দোয়া দরকার।
সোনালী, রূপালী এবং অগ্রণী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া ৩ জনই সরকারের অন্য ৩ ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেই নিযুক্ত ছিলেন। রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকেই তাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ার।







