আশির দশকের জনপ্রিয় চরিত্র ম্যাকগাইভার অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেসবুক লাইভে বললেন, ‘ওয়েক আপ বাংলাদেশ।’ একথা বলার সময় তিনি দুহাতে চোখ ডলে ঘুম থেকে জাগার অভিনয়ও করেন।
শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল নয়টা ছয় মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার থেকে শিপলু রহমানের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন ম্যাকগাইভার। এসময় তার হাতে ছিল কফির মগ। মোবাইল ধরে ছিলেন শিপলু রহমান। ফেসবুক লাইভে ম্যাকগাইভার চরিত্রে অভিনয় করা রিচার্ড ডিন অ্যান্ডারসন বলেন, ‘হ্যালো বাংলাদেশ। গুড মর্নিং। ওয়েক আপ।’
বাংলাদেশ থেকে শিপলু রহমান খান অস্ট্রেলিয়া গেছেন ম্যাকগাইভারের সঙ্গে দেখা করতে। গত বৃহস্পতিবার তাদের প্রথমবার দেখা হয়। শনিবার দ্বিতীয়বার দেখা হয়। দ্বিতীয় দেখায় শিপলুর ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন ম্যাকগাইভার চরিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা রিচার্ড।
ম্যাকগাইভারের সঙ্গে দ্বিতীয়বার দেখা হওয়া প্রসঙ্গে চ্যানেল আই অনলাইনকে শিপলু বলেন, ‘শনিবার আমাদের দীর্ঘক্ষণ কথা হয়। তার সঙ্গে দেখা হয়। তিনি ব্যস্ত ছিলেন। আমাকে অপেক্ষা করতে বলেন । লাঞ্চের সময় আমাকে ডেকে ভেতরে নিয়ে যান। আমরা একসঙ্গে বসে দীর্ঘক্ষণ কথা বলি।’

ম্যাকগাইভার বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা পোষণ করেছেন জানিয়ে শিপলু বলেন, ‘আমরা সেলিব্রেটিদের সঙ্গে মিটআপ ইভেন্টে এসেছি। এই ইভেন্টে আমি একমাত্র এশিয়ান। আমি এসেছি শুধুমাত্র রিচার্ডকে দেখতে। একথা শোনার পর তিনি বলেন, “আমিও বাংলাদেশে যাব। তোমার বাবা-মাকে দেখতে।”
আমেরিকায় গিয়েই ম্যাকগাইভার শিপলুর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন, এমনটাই জানালেন শিপলু।
শিপলু আরও জানান, ম্যাকগাইভার বিয়ে করেননি। তার আয়ের সবটাই ব্যয় করেন পথশিশুদের জন্য। গৃহহীনদের জন্য কাজ করে এমন চ্যারিটি সংস্থার সাথে যুক্ত রিচার্ড ডিন অ্যান্ডারসন।
১৯৮৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯২ সালের ২১ মে পর্যন্ত মোট ৭টি সিজনে ১৩৯টি পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি চ্যানেলে প্রচারিত হয় ম্যাকগাইভার। সেসময় বিটিভিতে টিভি সিরিজটি প্রচার হয়। পরবর্তীকালে এই সিরিজটি বাংলায় ডাবিং করেও প্রচার করা হয়। তখন এই টিভি সিরিজ ছিল ছোট-বড় সকলের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি সিরিজ।
১৯৯০ সালের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে বিটিভি ২০১০ সালে আবারও বাংলায় ডাবিং করে প্রচার করে। তখনও জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করে ‘ম্যাকগাইভার’!
১৯৮৫ সাল থেকে শুরু করে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত মোট ৭টি সিজনে ১৩৯টি পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি চ্যানেলে প্রচার হয় ম্যাকগাইভার। সেসময় বিটিভির মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকরা সিরিজটি দেখার সুযোগ পান। হাতের কাছে যা পান তাই দিয়ে বিজ্ঞানের সূত্র প্রয়োগ করে ম্যাকগাইভার শক্রদের ঘায়েল করেন। চরিত্রটি বাংলাদেশে এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে লেখার খাতা, ভিউকার্ড, পোস্টারে ম্যাকগাইভারের ছবি দখল করে নেয়।

স্কুল কলেজে আলোচনার বিষয়ও হয়ে দাঁড়ায় ম্যাকগাইভার। তখন এই টিভি সিরিজ ছিল ছোট-বড় সকলের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি সিরিজ।








