‘ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসেছেন বটে। তবে বেশিদিন টিকবেন না। তাকে রিপাবলিকানরাই অভিসংশন করে সরিয়ে দেব।’ সদ্য নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন সেদেশেরই ইতিহাসবিদ অধ্যাপক অ্যালান লিটম্যান।
বহুদিন ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এগিয়ে আসার সময় নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন তনি। এজন্য একটি ঐতিহাসিকভাবে পদ্ধতিও ব্যবহার করেন। প্রেডিক্টিং দ্য নেক্সট প্রেসিডেন্ট ইন হোয়াইট হাউস বইতে ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে কথা বলেছেন লিটম্যান।
ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময়ও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এবার ট্রাম্পকে নিয়েও করেছিলেন। সত্য হয়েছে তার ভবিষ্যদ্বাণী। তবে এখন বলছেন, মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবেন না ট্রাম্প।
লিটম্যান বলেন, ‘নির্বাচনে ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত, একথা আগেই বলেছিলাম। তবে ক্ষমতায় এলেও, বেশিদিন টিকবেন না তিনি।’

ট্রাম্প কেন টিকবেন না তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন এই ইতিহাসবিদ। ওয়াশিংটন পোস্টকে তিনি বলেন, ‘কারণ ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট করা নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে একজন রক্ষণশীল, নিয়ন্ত্রণযোগ্য লোকই পছন্দ তাদের। সেক্ষেত্রে ট্রাম্প একেবারেই বেমানান। তাকে নিয়ন্ত্রণ করা একেবারেই অসম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, কিছুদিনের মধ্যেই রিপাবলিকানদের সেই সুযোগ করে দেবেন ট্রাম্প। জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কিছু করে বসবেন। যাতে রাজদ্রোহের অভিযোগ তুলে (অভিসংশন করে)তাকে সরিয়ে দেবেন রিপাবলিকানরা।’
৮ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন জিতবেন বলে প্রায় সবাই ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন অধ্যাপক অ্যালান লিটম্যান। হয়েছেও তাই।

কিন্তু ট্রাম্প জেতার পর থেকেই আমেরিকা জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। গুগলে হামলে পড়েছেন মানুষ। বারবার একই প্রশ্ন করা হচ্ছে, ‘কীভাবে প্রেসিডেন্ট কে গদিচ্যুত করা যায়?’
সমীক্ষায় দেখা গেছে, হিলারি ক্লিনটন হার স্বীকার করার পর ওই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা প্রায় ৫০০০ শতাংশ বেড়ে যায়।
অধ্যাপক লিটম্যান ছাড়াও, ট্রাম্পকে সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অফ উটাহ–র আইন বিভাগের অধ্যাপক লুইস পিটারসন। এখনও পর্যন্ত কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেশদ্রোহের দায়ে সাজা কাটতে বা সরতে হয়নি। সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসন এবং বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও, মার্কিন সিনেটে রেহাই পেয়ে যান তারা। আর ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির জেরে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই পদ থেকে সরে গিয়েছিলেন রিচার্ড নিক্সন।









