ক্রীড়াবিশ্বে খেলোয়াড়দের শাস্তির বিষয়টি হরহামেশাই দেখা মেলে। কিন্তু সেই শাস্তিটা যখন হয় আপাত ঠাণ্ডা ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কারো, তাতে বিতর্ক-সমালোচনা জমে ওঠারই কথা। লিওনেল মেসিকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমালোচনার কেন্দ্রে এখন ফিফা। সহকারী রেফারিকে গালি দিয়ে নিষিদ্ধ হওয়া মেসি প্রকাশ্যেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বলেছেন, তার কথাগুলো ছিল আপন মনে হতাশার বহিঃপ্রকাশ। এবার ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফাকেও লিখিতভাবে জানিয়েছেন সেটি। নয় অনুচ্ছেদের এক চিঠিতে তুলে ধরেছেন নিজের পক্ষে যুক্তি। কয়েকটি গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে মেসি ক্ষমা চেয়েছেন আবার কেউ কেউ বলছেন চিঠির মাধ্যমে আসলে দোষ এড়াতে চেয়েছেন তিনি।
দেখে নেওয়া যাক ফিফায় পাঠানো চিঠিতে মেসি আসলে কী বলতে চেয়েছেন:
‘‘প্রথমত, বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, ফিফা থেকে প্রেরিত বিজ্ঞপ্তির জবাব দিচ্ছি আমি। আমি যখন এটা পাই, তখন জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ বাছাই খেলতে আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্স থেকে বলিভিয়ায় যাচ্ছিলাম।
“দ্বিতীয়ত, সেদিন আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে আমাকে যে বিজ্ঞপ্তিটি পাঠানো হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে এএফএ যে উত্তর পাঠিয়েছে আমি তার সবকিছুর সঙ্গে একমত।
‘‘তৃতীয়ত, আমি দৃঢ়ভাবে অভিযোগ অস্বীকার করে বলছি যে, চিলির বিপক্ষে খেলার সময় সহকারী রেফারিকে উদ্দেশ্য করে এমনকিছু বলিনি, যা ফিফার শাস্তিমূলক ধারা ৫৭’র আওতায় পড়ে।
“আমি বলতে চাই, ব্রাজিলিয়ান যে সহকারী রেফারির সঙ্গে আমি কথা বলেছি, তিনি আমার কয়েক সেন্টিমিটারের মধ্যেই ছিলেন। সুতরাং আমি কী বলেছি সে সম্পর্কে তার ভালোভাবেই ধারণা থাকার কথা। সে অর্থে বলতে পারি, আমাদের মাঝে যে আলোচনা হয়েছে তাতে কোনভাবেই রেফারিকে আঘাত করার মত কোন শব্দ ছিল না। তেমন হলে তিনি প্রধান রেফারির সাহায্য নিতে পারতেন। আমার আচরণ সম্পর্কে সতর্ক করে তাকে জানাতেন। কিন্তু সহকারী রেফারি তা করেননি!
“এমনকি তিনি যদি আমার কথা বুঝতে না পারতেন, তখন অন্য কোন রেফারি কিংবা কলম্বিয়ান কোন প্রতিনিধির সঙ্গেও কথা বলতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। কারণ আসলে তিনি আমার আচরণ খেয়ালই করেননি কিংবা তার কাছে আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার মত সেইরকম কোন আচরণ মনে হয়নি। (ফিফার আইন অনুযায়ী এই ধরনের আচরণের শাস্তি অনুমোদিত নয়!)

‘‘আমার আচরণগত অতীত ইতিহাস আমার অবস্থানের পক্ষে সমর্থন করে। আমার খেলোয়াড়ি জীবনের পুরোটা ত্রুটিহীন, সেখানে এরকম কোন আচরণের বা শাস্তির ঘটনা ঘটেনি; সেটি দেশ কিংবা ক্লাব- যাদের হয়েই খেলেছি। এমনকি অভিযোগপত্রে যা লেখা হয়েছে সেরকমটিও না।
‘‘যে ভিডিও চিত্রটি দিয়ে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেটি সম্পাদনা করা হয়ে থাকতে পারে, এটি পূর্ণ সত্যতা যাচাই করতে যথেষ্ট নয়। তারা এমন কোন সঠিক চিত্র দেখাতে পারেননি যা দ্বারা প্রমাণিত হয় আমি সহকারী রেফারিকে গালি দিয়েছি, যা ফিফার কোন আইন বা ফেয়ার-প্লের নিয়ম ভঙ্গ করে। এরপরও যদি সহকারী রেফারি আমার কোন কথায় অস্বস্তিবোধ করে থাকেন বা আহত হন, আমি তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি; কারণ আমি তাকে নয় বাতাসে শব্দ ছুঁড়েছিলাম। এ জন্য আমি ভুল স্বীকার করছি।
‘‘এটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে, একটি অভিযোগকে দাঁড় করাতে যে পরিমাণ প্রমাণ-সাক্ষীর দরকার হয় তা শৃঙ্খলা কমিশনের কাছে ছিল না। একটি সম্পাদনা ভিডিও দেখেই গালি দেওয়ার মত কোনকিছু প্রমাণিত হয় না। সেই সহকারী রেফারি কিন্তু নিজে বলেননি যে তিনি আমার মুখেই ওই কথাগুলো শুনেছেন বা বুঝতে পেরেছেন। তিনি কিছু না বুঝলে আমাকে জিজ্ঞাসাও করতে পারতেন, কারণ তিনি প্রায় আমার কান ঘেঁষে মাথার কাছেই দাঁড়ানো ছিলেন।
“সবশেষে, আর তেমন কিছুই বলার নেই আমার। সেই খেলার রেফারিদের প্রতিও কোন অভিযোগ নেই। আমি এএফএ’র সঙ্গেও একমত, স্পষ্টভাবে অনুরোধ করছি বর্তমান শৃঙ্খলা কমিটি যেন অন্যায্য কারণ ছাড়া আমাকে দোষী না করেন।








