হারলে সিরিজ হাতছাড়া হবে না। তবে জিতলে প্রথমবারের মত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বাদ। ২০০৯ সালের পর দেশের বাইরে প্রথম সিরিজ জয়ও। এমন ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ২৮১ রানের লক্ষ্য দিয়ে স্বাগতিকরা। তাহলে কতটা কঠিন হতে পারে এই লক্ষ্য?
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে একটি জয়ের স্মৃতি আছে বাংলাদেশের। বাকি ৯টি ম্যাচে খেলে হার। জেতা ম্যাচটি হংকংয়ের বিপক্ষে। ২০০৪ সালের এশিয়া কাপে অবশ্য শুরুতে ব্যাট করেছিল টাইগাররা। তাদের ২২১ রানের জবাবে ১০৫ রানে গুটিয়ে যায় হংকং। হাবিবুল বাশারের দলের জয়টি ১১৬ রানের। সেটি রানের দিক থেকে এই মাঠের চতুর্থ সর্বোচ্চ জয়।
এই মাঠের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয়টির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নাম। তবে পরাজিতের কাতারে। ২০০২ সালের আইসিসি ট্রফিতে ২৪৪ রানের সংগ্রহ গড়েছিল নিউজিল্যান্ড। খালেদ মাসুদের দল গুটিয়ে গিয়েছিল ৭৭ রানে। হারটি ১৬৭ রানের।
সিংহলিজের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহটি পাকিস্তানের, ৩৪৩। হংকংয়ের বিপক্ষে ২০০৪ সালে। ম্যাচটি ১৭৩ রানে জিতেছিল পাকিস্তান। এই মাঠে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ সংগ্রহটি ৩০৮ রানের। ২০০৪ সালে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪৯ রানে জিতেছিল লঙ্কানরা।
আর ১৯৯৭ সালে পেপসি কাপে ২৯৬ করে আকরাম খানের দলকে ১৯৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১০৩ রানে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। ২০০৫ সালে সেখানে ২৬৯ করে ৮৮ রানের জয় তুলে নিয়েছিল হাবিবুল বাশারের দলকে ১৮১ রানে গুটিয়ে দিয়ে।
সবমিলিয়ে এই মাঠে কখনো আড়াইশ ছোঁয়া হয়নি বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বোচ্চ সংগ্রহটি ২২৬ রানের। এই মাঠে সেটি আবার আগে ব্যাট করে। ২০০২ সালের কথা। ম্যাচটি লঙ্কানরা জিতেছিল ৫ উইকেটে। পরে ব্যাট করে টাইগাররা দুইশই পেরোতে পারেনি কখনো।
ওয়ানডেতে এসএসসিতে ২৫০-এর বেশি রানের ইনিংসই আছে মাত্র ২০টি। যার মধ্যে ১৫টিই প্রথমে ব্যাট করা দলের। কলম্বোর এসএসসি-তে তাড়া করে ২৫০ রানের বেশি যে পাঁচটি ইনিংস আছে তার মাত্র দুটিই দেখেছে জয়ের মুখ।
হাতেগোনা সেই পরিসংখ্যানে শ্রীলঙ্কা একবার ২৯৬ করেও ভারতের কাছে ২৩ রানে হেরেছিল। সেটি ১৯৯৯ সালে। সেই ম্যাচে বৃষ্টি আইনে জিততে হয়েছিল ভারতকে। তারা ৪২ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৭ রান তুলেছিল। আর জিম্বাবুয়ে ১৯৯৮ সালে ২৮১ করেও হেরেছিল লঙ্কানদের কাছে। স্বাগতিকরা জিতেছিল ৪ উইকেটে। ৬ বল হাতে রেখে।
তবে সেসব ম্যাচের কথা অনেক পেছনের। আর পুরনো বাংলাদেশের সঙ্গেই খাটে। এই বাংলাদেশ তো নতুন বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে যারা গত দুবছর ধরেই ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছে। এই সিরিজেও প্রস্তুতি ম্যাচে সাড়ে তিনশর ওপর তাড়া করতে যেয়ে ২ রানে হেরেছে। প্রথম ওয়ানডেতে ৩০০ এর ওপরে সংগ্রহ গড়ে ৯০ রানে জিতেছে। নতুন বাংলাদেশ তাই শনিবার কলম্বোয় নতুন শুরুর আত্মবিশ্বাস নিয়েই রান তাড়া করতে নামতে পারছে।








