বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমারের মন্ত্রী ট্রিন্ট সোয়ের বৈঠককে ‘আইওয়াশ; বলছে বিএনপি। মঙ্গলবার সকারে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বৈঠকটি ‘আইওয়াশ’ ছাড়া আর কিছুই নয়। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন একটি সুদীর্ঘ বিলম্বিত পথ। রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নিরাপত্তাসহ স্বদেশে ফেরত নেয়ার কোনো তাগিদ নেই সেখানে।
মিয়ানমার বাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের চুক্তিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে বলে সেই দেশের মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেছেন।
জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে এ ধরণের চুক্তি ভাওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয় দাবি করে রিজভী বলেন, মিয়ানমারের মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের সময়ও সেখানে রোঙ্গিাদের ওপর বর্বর নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। তাদের নির্যাতনে সেখান থেকে এখনও হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে আসছেন। এসব বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিছুই বলেননি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশবাসীকে মন ভোলানো কথা বলেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, রোহিঙ্গাদের দুর্দশা বিক্রি করে পুরস্কার প্রাপ্তির আশায় উৎসবে ব্যস্ত সরকার। গণবিরোধী নীতির কারণেই ইতিহাসের রঙ্গমঞ্চে আওয়ামী লীগ বরাবরই খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
মিয়ানমার বাহিনীর বর্বর নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। সেখানে এখনও মানবিক বিপর্যয় কাটেনি। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনগণের দুর্ভোগের দিকে না তাকিয়ে এখন ছুটছেন পুরস্কার প্রাপ্তির দিকে। কিভাবে নোবেল পুরস্কারের মতো একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার হাতিয়ে নেয়া যায় সেজন্য তিনি লবিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে গভীর সংকটে নিপতিত থাকলেও আওয়ামী নেতারা এখন প্রধানমন্ত্রীকে পুরস্কার এনে দেয়ার লবিংয়ে ব্যস্ত। যেন ‘রোম যখন জ্বলছে, নীরু তখন বাঁশী বাজাচ্ছে’।










