মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধে মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেত্রী অং সান সু চি-কে শেষ সুযোগ দিয়েছে জাতিসংঘ। আর রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের ওপরই আস্থা রাখছে বাংলাদেশ। সু চির বর্তমান ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেছেন, এমনটি চলতে থাকলে মিয়ানমারের পরবর্তি পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হবে। অবশ্য এর আগে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর সহিংসতা বন্ধে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বারবার আহ্বান সত্ত্বেও পাত্তা দেয়নি মিয়ানমার। বারবার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার মতো উস্কানিমূলক ঘটনাও ঘটাচ্ছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী যারা আসলে দেশটির হর্তা-কর্তা। এমন প্রেক্ষাপটে আজ রাজধানীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিন্স বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়াই সমস্যার একমাত্র স্থায়ী সমাধান। হত্যাযজ্ঞ ঠেকাতে জাতিসংঘ প্রয়োজনে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে বলেও ধারণা তার। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। বিভিন্ন দেশ বিভিন্নভাবে আগেই এ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা দেয়ায় গোটা বিশ্ব পাশে আছে বলে মনে করে সরকার। খোদ জাতিসংঘের হিসাবে, ২৫ আগস্টের পরে এ ধাক্কায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা রোহিঙ্গার সংখ্যা চার লাখ ঊনিশ হাজার। সব মিলিয়ে দেশে প্রবেশ করা মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ৮ লাখের কাছাকাছি। সকল রোহিঙ্গাকে দেশে ফেরত নিয়ে তাদের নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারতো কফি আনান কমিশনের সুপারিশ। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত রোহিঙ্গা বিষয়ক কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট। ৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ত্রিশটি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন না করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই হত্যাকাণ্ড শুরু করে। এরপরে যে বাংলাদেশমুখি অসহায় রোহিঙ্গাদের ঢল, তা বর্তমানে বিশ্বের ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয় ও শরণার্থী সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সীমিত ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে সাময়িক আশ্রয় দান করেছে। তবে আমাদের আশাবাদ, উপযুক্ত পরিবেশ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিষয়টি আরও আলোচনা হবে। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত ও মিয়ানমারে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।









