চঞ্চল চৌধুরী। ছোট ও বড় পর্দার তারকা। নতুন ছবিতে অভিনয় করছেন। নাম ‘দেবী’। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ছবিটি প্রযোজনা করছেন জয়া আহসান। ছবিতে চঞ্চল চৌধুরীর চরিত্রের নাম ‘মিসির আলী’। জনপ্রিয় চরিত্র। ছবির প্রথম লটের শুটিং শেষ করে ফিরেছেন। চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বললেন তিনি।
কেমন আছেন?
ভালো আছি।
‘দেবী’ পড়েছেন?
হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই উপন্যাসটি পড়েছি। ‘মিসির আলী’ সিরিজের প্রায় সবকটি বই আমার পড়া।
যখন পড়েছিলেন, তখন কী মনে হয়েছিল?
হুমায়ূন আহমেদের লেখাটাই এমন, এক পৃষ্ঠা পড়লে আটকে যেতে হয়। এক ধরনের মোহ কাজ করে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে হুমায়ূন আহমেদের নেশা পেয়ে বসে। ‘দেবী’ সাধারণ কোনো উপন্যাস না। হ্যালুসিনেশন নিয়ে লেখা। ফলে লেখা পড়লে এরপর কী হয়, এটা ভেবে মনে এক ধরনের উৎকণ্ঠা কাজ করে।
আপনি এখন ‘দেবী’ ছবিতে অভিনয় করছেন। শুটিংয়ের খবর কী?
শুটিং চলছে। আমি এখন পর্যন্ত ‘মিসির আলী’ চরিত্রে পাঁচ দিন শুটিং করেছি। আমার অংশের শুটিং শেষ করতে আরও একমাস লাগবে। এখন পর্যন্ত ৩০ ভাগ কাজ হয়েছে। আগামী মাসে আবার শুটিং করব।
‘মিসির আলী’ চরিত্রের জন্য কেমন প্রস্তুতি নিতে হয়েছে?
সব ধরনের প্রস্তুতিই নিতে হয়েছে। মিসির আলীর মতো পোশাক, শারীরিক ভাষা আর মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছি সমানতালে।
কোনো মানসিক চাপ অনুভব করছেন?
অবশ্যই। চরিত্রটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জের। কারণ ‘দেবী’ হুমায়ূন আহমেদের খুবই জনপ্রিয় উপন্যাস। আর ‘মিসির আলী’ চরিত্রটিও খুবই পরিচিত। এমন জনপ্রিয় চরিত্রে অভিনয় করাটা খুব চ্যালেঞ্জিং। কেননা পাঠক মিসির আলীকে বইতে পড়েছে। প্রত্যেকে নিজের নিজের মতো করে মিসির আলীকে সাজিয়েছেন। কোটি কোটি পাঠকের মধ্যে মিসির আলী আছে। এমন একটা চরিত্রে যখন অভিনয় করছি, তখন আমাকে অনেক বিষয় মাথায় নিতে হয়েছে। আমি যে মিসির আলীকে রূপ দান করব বা আমার মাধ্যমে দর্শক যে মিসির আলীকে দেখবেন, তাতে যেন দর্শকের ভালোলাগা কাজ করে। তারা যেন নিজেদের ভাবনার মিসির আলীকে মেলাতে পারেন। তাদের প্রত্যাশা যেন পূরণ হয়। সেই চ্যালেঞ্জ থেকেই কাজটি করা।
টিভি নাটকে অনেকেই মিসির আলীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাদের সঙ্গে ‘দেবী’র মিসির আলীর পার্থক্য কোথায়?
‘দেবী’র মিসির আলীকে অন্য কোনো মিসির আলীর সঙ্গে মেলানো যাবে না। কারণ সব কিছু ভেঙ্গে সত্যিকারের মিসির আলীকে বের করে আনার প্রাণপণ চেষ্টা ছিল আমার ও পরিচালকের। আমার মনে হয় আমরা সেটা পেরেছি।
মিসির আলীর কোন দিকটা নিয়ে বেশি ভাবতে হয়েছে?
অবশ্যই গেটআপ। পর্দায় দেখলেই যেন আমাকে মিসির আলী মনে হয়। অনেক ভেবেচিন্তে সেই ভাবে গেটআপ নেওয়া হয়েছে। কস্টিউম, গেটআপসহ সব কিছু যে পরিকল্পনা মাফিক করা হয়েছে, সেটা দর্শক দেখলেই বুঝতে পারবেন।
‘আয়নবাজি’র সাফল্য নতুন ছবিতে অভিনয়ের ক্ষেত্রে চাপ তৈরি করেছে?
‘আয়নাবাজি’ মুক্তির পর সারা দেশের দর্শক হলে ভিড় জমিয়েছেন। দ্বিতীয় সপ্তাহে কয়েক গুণ বেড়েছে হলের সংখ্যা। দলবেঁধে সবাই ছবি দেখেছেন। দেশের বাইরে থেকে বিপুল সাড়া পেয়েছি। আমাকে নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশা বেড়েছে। ফলে ‘আয়নাবাজি’র সাফল্য একটা চাপ সৃষ্টি তো করেছেই। আমিও সবটা দিয়ে দর্শকের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করছি।
মিসির আলী হিসেবে নিজেকে কখন সফল মনে করবেন?
আমি সফল মনে করব না। মিসির আলী হিসেবে কতটা সফল বা সফল নয়, সেটা নির্ধারণ করবেন দর্শক।
‘আয়নাবাজি’ ছবিতে অভিনয়ের সময় অনেক দিন কোনো নাটকে কাজ করেননি। চারমাস ভাত খাননি। এখন?
দুইটা ধারাবাহিক প্রচারিত হচ্ছে। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘পোস্ট গ্রাজুয়েট’। এখানে তিনদিন শুটিং করছি। আবু হায়াত মাহমুদের ‘বৃষ্টিদের বাড়ি’। সেখানে দুইদিন শুটিং করছি। ‘দেবী’তে অভিনয় করার পাশাপাশি এই পাঁচদিন দুইটা নাটকে কাজ করছি। এছাড়া আর কোনো কাজ করছি না।
ছবি : সংগৃহীত







