সবাই ছুটিতে। শুধু পিনাক ঘোষ ব্যতিক্রম। তাসমান পাড়ের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আগে যুবদলের এই ওপেনার মিরপুরের একাডেমি মাঠে দৌড়-ঝাঁপ করছেন। জানালেন, নিউজিল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশন নিয়ে তাকে সাহস যুগিয়েছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।
উপমহাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য কঠিনতর কন্ডিশনের একটি নিউজিল্যান্ড। পাহাড় ঘেরা শহর, সমুদ্রবেষ্টিত, বাতাসের বেগে তারতম্য আর কনকনে ঠাণ্ডা আবহাওয়া। প্রাকৃতিক কারণেই উইকেটগুলো হয়ে থাকে বাউন্সি। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কারোরই সেখানে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। অচেনা সেই কন্ডিশনেই যুবাদের বিশ্বকাপ পরীক্ষা।
পিনাক বলছেন, ‘মাশরাফী ভাইসহ কয়েক জনের সঙ্গে কথা হয়েছে। বলেছেন যে, কন্ডিশন খুব বেশি কঠিন হবে না।’
২০১৬ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপে খেলেছেন পিনাক। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। সাউথ আফ্রিকা সফরে গিয়ে এ বাঁহাতি ওপেনার খেলেছিলেন ১৫০ রানের অনবদ্য একটি ইনিংস। তাকে ঘিরে বড় স্বপ্ন দেখছিল মিরাজবাহিনী। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতেই ফর্ম হারান! বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা আছে বলে তার প্রতি এবারও দলের প্রত্যাশা বেশি। এ তরুণের কণ্ঠেও শোনা গেল প্রত্যাশা পূরণের প্রত্যয়।
‘যেহেতু দল চায় আমি আরো দায়িত্ব নিয়ে খেলি, আমিও সেটা করতে চাই। আমি আরো একটা বিশ্বকাপ খেলেছি। দায়িত্ব তাই অনেক। আমি এই দায়িত্ব পালন করতে চাই। দলকে যেন একটা ভালো শুরু এনে দিতে পারি এবং তা সামনে ধরে রাখতে পারি। সেটাই উদ্দেশ্য।’

আরেকটি বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফর্মে ফিরেছেন পিনাক। এশিয়া কাপে করেছেন দারুণ ব্যাটিং। তাতে লড়াকু মনোভাবও এসেছে পিনাকের ভেতর, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী। এশিয়া কাপটা ভালো গেছে। আমাদের দলের সবাই দারুণভাবে প্রস্তুত। বোলিং-ব্যাটিং-ফিল্ডিং; সব বিভাগেই সবাই ভালো করছে। সব মিলিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’
গত বিশ্বকাপে সেমি-ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। দলের কোচ ড্যামিয়েন রাইট জানিয়েছেন দলের লক্ষ্য দ্বিতীয় পর্বে খেলার। খেলোয়াড়দের প্রত্যাশা যে আরও উপরে সেটি বোঝা গেল পিনাকের কথায়, ‘আমরা গতবার সেমিফাইনাল খেলেছি। এবার প্রাথমিক লক্ষ্য থাকবে ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যাওয়া এবং অন্তত সেমিফাইনাল খেলা। তারপর আমরা অবশ্যই বিশ্বকাপ জিততে চাই।’
১৩ জানুয়ারি শুরু হবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। অংশ নেয়া দলগুলো সেখানে পৌঁছাবে ৬ জানুয়ারির মধ্যে। বাংলাদেশের যুব দল যাবে ১০ দিন আগে। ডানেডিনে ১০ দিনের ক্যাম্প সেরে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে ক্রাইস্টচার্চে যাবে সাইফ-আফিফ-পিনাকরা। মূল ক্রিকেটযজ্ঞে নামার আগে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান যুবাদের সঙ্গে খেলে প্রস্তুতি সারবে লাল-সবুজের দল।
এবারের বিশ্বকাপে টেস্ট খেলুড়ে ১২টি দেশ ও ৪টি সহযোগী দেশের যুব দল অংশ নেবে। তুলনামূলক সহজ গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। ‘সি’ গ্রুপে টাইগারদের সঙ্গী নামিবিয়া, কানাডা এবং ইংল্যান্ড।









