বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ও একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।
উদ্বোধনী শেষে শহীদ মিনার চত্বর থেকে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ বের হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে কলা ও মানবিক অনুষদের সামনে এসে শেষ হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুপুর সাড়ে ১২টায় সাংবাদিকতা বিভাগের সেমিনার কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।
তিনি বলেন: সাংবাদিকতা বাংলাদেশে ক্রমেই আকর্ষণীয় একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। এদেশের গণমাধ্যম এখন পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে দাঁড়াচ্ছে। এ অবস্থায় দক্ষ ও মেধাবী ছেলে-মেয়েদের এ পেশায় আসা জরুরী।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম এক ধরনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক হুমকির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন: নানান কারনে গণমাধ্য ক্রমশই তার নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। সাংবাদিকতায় কোন প্রোটোকল দিয়ে স্ট্যাটাস তৈরি হয় না। সাংবাদিকতার অবস্থা এখন এমন যে, পুকুর ভর্তি কুমির ছেড়ে বলা হচ্ছে এই পাড় থেকে ওই পাড়ে সাঁতরে পার হতে, যেখানে মাথায় লাগলেও শেষ লেজে লাগলেও শেষ। এই কুমির হতে পারে কখনও রাজনৈতিক দল, কখনও রাষ্ট্র আবার কখনও কোন বড় ভাই। এখানে বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে হলে আগের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি বস্তুনিষ্ঠ ও জীবনঘনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করতে হবে।
সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন: সাংবাদিকতা হচ্ছে এক ধরনের নেশার পেশা। তোমাদের নাকে ফাস্ট ফুডের গন্ধ লেগে আছে কিন্তু পত্রিকা ছাপানোর গন্ধ কি কখনো লেগেছে? মাদকতার মতো আকর্ষণ না থাকলে সাংবাদিকতা করা যায় না। দায়িত্বহীনতা নিয়ে সাংবাদিকতা করা যায় না, যিনি দায়িত্বহীন তিনি সাংবাদিকতা করেন না, অন্য কিছু করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন: কলা ও মানবিকী অনুষদের অধীনে নয়টি বিভাগে যত শিক্ষার্থী ভর্তি হয় তার মধ্যে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে সাংবাদিকতা বিভাগ। প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বিভাগটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান করতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ট্র্যাডিশনাল সাংবাদিকতার চর্চা ছিলো বিভাগটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে তার মধ্যে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিভাগের শিক্ষার্থীরা পড়াশুনার পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তিনি বিভাগটির উত্তরোত্তর সাফল্য ও উজ্জ্বল ভবিষৎ কামনা করেন।
বিভাগের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার মণ্ডলের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তপন কুমার সাহা, সহকারী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদ প্রমুখ।
প্রভাষক সালমা আহমেদের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক প্রভাষক হাসান মাহমুদ ফয়সল, সুমাইয়া শিফাত, মীর ফজলে রাব্বি, নিশাত পারভেজ ও নাজমা আক্তার সহ বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে সকলের অংশগ্রহণে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদযাপন করা হয়।








