‘সড়ক দুর্ঘটনা’ দেশে একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৯৭ জন নিহত ও ১৬ হাজার ১৯৩ জন আহত হয়েছেন। দেখা গেছে যে ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে মোট দুর্ঘটনা ১৫.৫ শতাংশ, নিহত ২২.২ শতাংশ, আহত ১.৮ শতাংশ বেড়েছে। আজ শনিবারও (১০ মার্চ) গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ৮ জন এবং যাত্রীবাহী বাস ও পাওয়ারট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছে। এছাড়াও যশোর, নাটোর ও কক্সবাজারের সড়কে নিহত হয়েছে আরো ৪ জন। সব মিলিয়ে আজই ১৫ জনের নিহত হবার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এভাবে প্রতিদিন দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, রাস্তাঘাটের নির্মাণ ত্রুটি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনার কারণ বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করে থাকেন। এছাড়া যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, মাদকসেবন করে যানবাহন চালানো, রাস্তায় ফুটপাত না থাকার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে। যেমন আজকে গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে রডবোঝাই যে ট্রাক উল্টে গেছে, তার কারণ একজন অসতর্ক সাইকেল আরোহী। তাকে বাঁচাতে গিয়েই ওই দুঘর্টনা। আরেকটি বিষয় সড়ক দুঘর্টনার বিষয়ে আলোচনায় আসা দরকার বলে আমাদের মনে হয়েছে, তা হচ্ছে- মহাসড়কগুলোতে নানা গর্ত ও সেইসব গর্ত অমসৃণভাবে মেরামত। মহাসড়কের ওইসব সামান্য খুঁত ও মহাসড়কে চলা সাইকেল-ভ্যানসহ নানা ছোটো যানগুলোর কারণে হাইস্পিড যানবাহনগুলোর চালক ভারসাম্য হারিয়ে দুঘর্টনার কারণ হয়। দেশের যানচালকদের নানা অদক্ষতা-অশিক্ষাকে বহুদিন ধরে একতরফা দায়ী করা হলেও অন্যান্য বিষয়গুলোও আমাদের আলোচনায় আনা দরকার বলে আমরা মনে করি। মহাসড়কের আশেপাশে লোকালয়ে বাস করা জনগণের জন্য আলাদা সহায়ক সড়কসহ সড়ক-মহাসড়কে নিরাপত্তা বিষয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। আমাদের আশা: সব বিষয় মাথায় রেখে নিরাপদ সড়কের প্রত্যাশায় কাজ করবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ, তাহলেই একেবারে বন্ধ না হলেও কমে আসবে সড়ক দুঘর্টনা। সড়ক-মহাসড়কে একটি মৃত্যুও চাই না।








