ইনিংসের মাঝপথে বোলাররা ঝটপট কয়েকটি উইকেট তুলে নিলেও শ্রীলঙ্কার রানের চাকায় লাগাম পড়াতে পারেনি। জয়ের জন্য টাইগারদের সামনে তাই ২১৫ রানের বড় লক্ষ্যই ছুঁড়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা।
প্রেমাদাসায় এদিন শুরু থেকেই ঝড় তোলেন শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। যার ফল, নির্ধারিত ওভার শেষে ৬ উইকেটে ২১৪ রানের সংগ্রহ। যেটি এই মাঠে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ, এবং মাঠেরও সর্বোচ্চ।
এই মাঠে লঙ্কানদের আগের সর্বোচ্চ সংগ্রহটি ছিল ১৭৫ রানের, ভারতের বিপক্ষে নিধাস ট্রফির প্রথম ম্যাচেই। আর মাঠের আগের সর্বোচ্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ২০৫ রান, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০১২ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে।
শনিবার ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পেয়ে দুর্দান্ত শুরু করে টাইগার বোলারদের গড়িয়ে-উড়িয়ে সীমানার বাইরে পাঠাতে থাকেন গুনাথিলাকা ও মেন্ডিস। দুই লঙ্কান তরতরিয়ে এগিয়ে নেন রানের চাকা। দুজনের ঝড়ে ৪.৩ ওভারেই ফিফটি পেরোয় স্বাগতিকরা।
গুনাথিলাকার ও মেন্ডিসের ৫৬ রানের জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ। নিজের ভয়ঙ্কর অস্ত্র স্লোয়ার-কাটারে গুনাথিলাকার স্টাম্প উড়িয়ে। বাহাতি পেসারের দুর্দান্ত স্লোয়ার-কাটারটি বুঝতেই পারেননি গুনাথিলাকা। একটু আগেভাগে ব্যাট চালিয়েছিলেন। বল ব্যাট ফাঁকি দিয়ে উল্টে দেন স্টাম্প। ৩ চার ও এক ছক্কায় ১৯ বলে ২৬ রান এসেছে লঙ্কান উদ্বোধনীর ব্যাটে।
কুশল মেন্ডিস ও কুশল পেরেরা পরে রানের চাকা এগিয়ে নেন দ্রুততাল রেখেই। তাতে দশম ওভারেই শতক ছুঁয়ে ফেলে লঙ্কানরা। ঝড় তোলা মেন্ডিস তুলে নেন আরেকটি ফিফটি। টি-টুয়েন্টিতে শেষ চার ম্যাচে তৃতীয়, আর বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচে টানা তৃতীয় ফিফটি।
সেটি থামান মাহমুদউল্লাহ। ইনিংসের ১৪তম ওভারে বোলিংয়ে এসে তুলে নেন দুই উইকেট। প্রথম বলে ছক্কা মেরেছিলেন মেন্ডিস। মাহমুদউল্লাহ পরের বলেই প্রতিশোধ নেন। ডিপ উইকেটে সাব্বিরের ক্যাচ বানিয়ে। থামে ২ চার ও ৫ ছক্কায় ৩০ বলে ৫৭ রানের ইনিংস।
মাহমুদউল্লাহর জোড়া আঘাতের ওভারে দাসুন শানাকা দ্বিতীয় শিকার। ডিপ মিডউইকেটে সাব্বিরের তালুতেই জমা পড়েন রানের খাতা খোলার আগেই। এরপর সিরিজে টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন পেরেরা।
খরুচে তাসকিন তখন বোলিংয়ে ফিরে আঘাত হানেন। ২ রান করা দিনেশ চান্দিমালকে ফেরান। মিডঅফে সাব্বিরের আরেকটি দুর্দান্ত ক্যাচ হয়ে থামেন লঙ্কান অধিনায়ক।
তবে একপ্রান্ত আগলে রাখা কুশল পেরেরাকে থামাতে বেগ পেতে হয়েছে টাইগারদের। শেষপর্যন্ত ৭৪ রানে তাকে থামান মোস্তাফিজ। ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৪৮ বলের ইনিংসটি ততক্ষণে যা সর্বনাশ করার করে ফেলেছে। ওই ওভারেই থিসারা পেরেরাকেও (০) ফেরান ফিজ। উপুল থারাঙ্গা ১৫ বলে ৩২ রানের ঝড়ে তারপরও সংগ্রহটা পাহাড় উচ্চতাতেই টেনে নেন।
তাসকিন ৩ ওভারে ৪০ রানে এক উইকেট পেলেও সবচেয়ে খরুচে বোলার এদিন। ৪ ওভারে ৪৫ রান দেয়া রুবেল উইকেটের দেখা পাননি। মিরাজ দারুণ বল করেছেন, ৪ ওভারে মাত্র ৩১ রান দিয়েছেন, অবশ্য উইকেট মেলেনি।
দুই উইকেট নেয়া মাহমুদউল্লাহর খরচ ২ ওভারে ১৫ রান। আর সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেয়া মোস্তাফিজ ৪ ওভারে বিলিয়েছেন ৪৮ রান।







