হঠাৎ করেই প্রধান নির্বাচকের পদ থেকে সরে গিয়েছিলেন ফারুক আহমেদ। পরে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বিসিবির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই তার। বাইরে থেকে যতটা দেখছেন বোর্ডের কর্মকাণ্ড, তাতে ফারুকের মনে হয়েছে নির্বাচকরা স্বাধীন নন।
শনিবার মিরপুরের একাডেমি মাঠে প্রদর্শনী ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাবেক অধিনায়ক ফারুক বললেন, ‘নির্বাচকদের স্বাধীনতা থাকতে হবে। প্রথমেই ঠিক করতে হবে কাকে নির্বাচক বানাবেন। তার যোগ্যতা কতটুকু, পরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে কিনা দেখতে হবে। বোর্ডের হাতেই সব ক্ষমতা। বোর্ড নির্বাচকদের একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্বাধীনতা দিয়ে দেখতেই পারে। যদি এরমধ্যে ভাল ফল না আসে, সেই নির্বাচক কমিটি ভেঙে দেয়ার সব ক্ষমতাই তো বিসিবির আছে। আমি মনে করি, এখনকার নির্বাচকদের ক্ষমতা খুবই কম। তারা স্বাধীনভাবে কাজ তো করতে পারেনই না, তাদের যোগ্যতা নিয়েও কথা হতে পারে।’
২০১৬ সালের জুনে ফারুক আহমেদ পদত্যাগ করার পর প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পান আরেক সাবেক ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। শুরুতে তিন সদস্যের নির্বাচক প্যানেল থাকলেও এখন নান্নুর সঙ্গে আছেন কেবল হাবিবুল বাশার সুমন। সাজ্জাদ আহমেদ শিপন জাতীয় দল থেকে সরে বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করছেন।
ফারুক যখন স্বপদে বহাল তখন নির্বাচক ইস্যুতে বিতর্কের জন্ম দিয়ে করা হয় নির্বাচক প্যানেল। যেখানে প্যানেলের নির্বাচকরা ছাড়াও যোগ করা হয় তখনকার প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে ও ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনকে। আলোচনা আছে, ফারুকের পদত্যাগের কারণই ছিল বিসিবির এই দ্বি-স্তর নির্বাচক কাঠামো।
ফারুকের মতে, দুটি কাঠামো থাকায় মূল নির্বাচকদের স্বাধীনতা কমেছে। যে কারণে পুরনো পন্থায় (তিন নির্বাচকই সর্বেসর্বা) ফিরে যেতে বললেন সাবেক এই ক্রিকেটার, ‘আমাদের আবার আগের জায়গায় ফিরে যাওয়া উচিত। আগে যেমন নির্বাচক কমিটি দিয়ে কাজ হত, ঠিক তেমনই। কমিটি থাকলে জবাবদিহির ব্যাপার থাকে। এখন কোন নির্বাচককে যদি দল নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করেন, সে কিন্তু বলতে পারবে না।’
নির্বাচক কাঠামো বদলে যাওয়ায় ‘হ-য-ব-র-ল’ কিছু হবে সেটি আগেই করতে আঁচ পেয়েছিলেন ফারুক। যে কারণেই পদ ছেড়েছিলেন বলে স্বীকার করলেন। এখনকার নির্বাচকদের যে খেলোয়াড় সম্পর্কে ধারণা কম, সেটি সরাসরিই বললেন।
‘জানতাম এমনকিছুই হবে। সে কারণে দেড় বছর আগে প্রধান নির্বাচকের পদ ছেড়ে দিয়েছিলাম। দল যখন ভাল করে, তখন অনেক কিছুই চোখে পড়ে না। দল যদি খারাপ করে, তখন সমস্যাগুলো সামনে চলে আসে। যদি নির্বাচক অনেক থাকে, সমস্যা হবেই। তখন একজন বলবে, অমুককে নিলে ভাল হতো, আরেকজন বলবে অমুককে নাও। আসলে এমন পরিস্থিতিতে কে সিদ্ধান্তটা নিল, সেটা বোঝা যায় না। এখন আমরা দেখি ম্যাচ শুরুর আগের দিনও খেলোয়াড় ঢোকানো হচ্ছে। এটা নির্বাচকেরা কতটুকু জানেন, আমরা জানি না। পত্রিকায় পড়েছি, তারা আসলে এসবের কিছুই নাকি জানেন না।’
ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট এবং টি-টুয়েন্টি সিরিজে অযাচিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন নির্বাচকরা। তিন সংস্করণের জন্য দল ঘোষণা করতে গিয়ে ৭বার কাউকে না কাউকে পরিবর্তন করেছে দল। দুই ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ৬জনের অভিষেক করিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন নির্বাচকরা। ফারুক আহমদে মনে করেন, দল নির্বাচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে চলে যাওয়াতেই এমন হচ্ছে।
‘যেকোনো ভাল কাজ আসলে এমনি এমনি হয় না। এর পেছনে একটা প্রক্রিয়া থাকে। সেই প্রক্রিয়াটা থেকে বোধহয় আমরা বেশ দূরে সরে এসেছি। এ জিনিসটা ঠিক করা দরকার। যেমন, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজ ও ত্রিদেশীয় সিরিজে ৩২জন খেলোয়াড়কে ডাকা হয়েছে। তিন সংস্করণ মিলে খেলেছে ২৮জন। এতে খেলোয়াড়েরা নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। দলটাকে থিতু করতে হবে। ২৮জন খেলোয়াড়কে তিন সংস্করণে খেলানোর কোন যুক্তিই নেই। ঠিক করতে হবে আমরা কোন খেলোয়াড়কে কোথায় খেলাতে চাই। দল নির্বাচনে ইদানীং খুব বেশি পরিবর্তন হচ্ছে।’








