ভুয়া খবর সনাক্ত এবং এর প্রকাশ বন্ধ করার করার জন্য বেশ কিছু সময় ধরেই ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো চেষ্টা করে আসছে। এই চেষ্টারই ফলস্বরূপ বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন এমনই এক ‘ভ্যাকসিন’ বা প্রতিষেধক, যা জনগণকে ভুল সংবাদ থেকে রক্ষা করবে।
ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ পরিচালিত এক গবেষণা থেকে বেরিয়ে এসেছে এমন কিছু মনস্তাত্ত্বিক হাতিয়ার, যা তথ্য বিকৃতিকে টার্গেট করে কাজ করে।
গবেষকদের মতে, পাঠকদের আগে থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুল তথ্যের ছোট ছোট ‘ডোজ’ দিয়ে রাখলে ভুল তথ্যগুলোকে চিহ্নিত করতে অনলাইন সংস্থাগুলোর পরে সুবিধা হবে।
কেমব্রিজের গবেষণাটির প্রধান গবেষক ড. স্যান্ডার ভ্যান ডার লিনডেন বলেন, ভুল তথ্য ভাইরাসের মতোই খুব দ্রত মাথায় গেঁথে যায়, ছড়িয়ে পড়ে এবং ডালপালা মেলতে থাকে। “আমাদের উদ্দেশ্য হলো অবধারণযোগ্য কিছু সাজানো তথ্য পাঠককে দেয়া, যা তাদের মধ্যে ভুল তথ্য সম্পর্কে এক ধরণের সতর্কতা তৈরি করবে। যেন পরবর্তী সময়ে সে ধরণের তথ্য পেলে তারা সাথে সাথে তা গ্রহণ না করে ফেলে।”
গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটির জন্য ২ হাজারের বেশি আমেরিকান নাগরিকের সামনে বিশ্ব উষ্ণায়ন সম্পর্কে দু’ধরণের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।
গবেষকরা দেখেন, একটার পর একটা সামনে আনার ফলে পাঠকের ওপর থাকা সুপ্রতিষ্ঠিত তথ্যের প্রভাব কমে গিয়ে ভুল দাবিগুলোই তাদের মাথায় ঘাঁটি গড়তে থাকে। কিন্তু ঠিক তথ্যকে ভুল তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে সতর্কতা রূপে উপস্থাপন করলে ভুল খবরটি তুলনামূলক কম পাত্তা পায়।
গত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের সময় নানা রকম ভুয়া খবরে ভরে গিয়েছিল সামাজিক মাধ্যমগুলো। বহু ওয়েবসাইটও সামনে এসেছিল ভুল সংবাদ নিয়ে। তখনই ভুল সংবাদ সনাক্ত করা, মানুষকে চেনানো ও সেগুলোর প্রচার ঠেকানোর জন্য বেশি সোচ্চার হয়ে ওঠে টেক জায়ান্টগুলো।









