যদি ভালোবাসা পাই আমিও পাবো জীবনে মধ্য অন্ত্য মিল। ভালোবাসা মানে শেষ হয়ে যাওয়ার কথার পরেও মুখোমুখি বসে থাকা।
চলে গেলেন কবি, সাহিত্যিক ও মুক্তিযোদ্ধা রফিক আজাদ। তার মৃত্যুতে ফেসবুকে শোকবার্তা প্রদান করেছেন রফিক আজাদের শুভাকাঙ্খিরা।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি মাহবুবুল হক শাকিল লিখেন:
প্রিয় রফিক আজাদ,
দুপুরের ঠিক এই সময়টাতেই আমরা কতিপয় ছন্নছাড়া সংসার পালানো মানুষ একত্রিত হতাম আমাদের প্রিয় আড্ডায়। কাকতালীয়ভাবে প্রতি শনিবার আড্ডা থাকতো ভর-ভরন্ত সংসারের মতো।
জাকারিয়া চৌধুরী (জ্যাক ভাই), সিকদার আমিনুল হক, হাবিবুল্লাহ সিরাজী, শিহাব সরকার, বাদল রহমান, ফারুক ভাই, ডঃ করিম, ডঃ আলী, মামুনুর রশীদ, সঞ্জীব চৌধুরী, রউফুল হাসান, অমিত হাবিব, এবং অতিআবিশ্যিকভাবে কবি রফিক আজাদ।
আরো অনেকেই, কেউ নিয়মিত, কেউবা অনিয়মিত। আমি ছিলাম আড্ডার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য।
কথা বলতে বলতে দুপুরের চনমনে রোদ চোখে নিয়ে আমরা কতিপয় জানালা দিয়ে দেখতাম চলমান শহর, ধাবমান জীবন। মেতে উঠতাম গান, কবিতা, সাহিত্য, রাজনীতি, জীবন অথবা নিদেনপক্ষে পরচর্চা নিয়ে।
এইমাত্র ইমদাদুল হক মিলন ভাই ফোনে জানালেন, রফিক ভাইয়ের পক্ষে আর আমাদের আড্ডায় আসা সম্ভব হবে না!
আড্ডা হবে রফিক ভাই, আবারো আড্ডা হবে। ওখানে বাদলদা, সিকদার ভাই, সঞ্জীবদা, রউফুল ভাই আছে, তুমি যাবে বলে। আমরাও হয়তো পথে জড়ো হচ্ছি সেই আড্ডায় আসবো বলে।
তুমি থেকো। আবার অন্য কোথাও যেয়োনা।
সাংবাদিক প্রভাষ আমিন লিখেন,
”হে কলম, উদ্ধত হ’য়ো না, নত হও, নত হতে শেখো,
তোমার উদ্ধত আচরণে চেয়ে দ্যাখো, কী যে দুঃখ পেয়েছেন ভদ্রমহোদয়গণ…”
আমাদের দেশে কাক আর কবির সংখ্যা সমান। কিন্তু সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি। সত্যিকারের কবির সংখ্যা সত্যিই কম। সেই সংখ্যা আরো কমিয়ে দিয়ে চলে গেলেন কবি রফিক আজাদ। ৩১ ডিসেম্বর রাতে শিল্পাঙ্গনে শেষ দেখা। শেষ দেখা জানলে অন্তত একটা ছবি তুলে রাখতাম।
সাংবাদিক জাহিদ নেওয়াজ খান লিখেন:
মাঝে মধ্যে ভাবি, আমার অজান্তে আমার ভেতরে কি এক পরিব্রাজক বাস করে? কথাটি বললাম এ কারণে যে সারাক্ষণই আমি ভ্রমণ করি। এমনকি শারীরিকভাবে যখন কোথাও যাই না, তখন ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতি ভ্রমণ করা প্রধান কাজ হয়ে ওঠে। গৃহী হয়েও সারা জীবনই আমি উড়নচণ্ডী- খেয়াল হলো তো চলে গেলাম জোছনার তীব্র কুসুমিত আলোকমালা উদযাপন করতে, কখনো নিসর্গের মনোরম শোভা মনকে কেড়ে রাখল- এভাবেই তো কাটিয়েছি আজীবন।
— রফিক আজাদ।
হয়তো তীব্র কুসুমিত কোনো আলোকমালা উদযাপনে নিসর্গের মনোরম শোভায় নতুন এক ভ্রমণে প্রিয় কবি।
রুমি নোমান লিখেন:
তাকে আমি দেখি এই ভেবে- একজন কবির ভয়ানক দুঃখ থাকে, তার অশ্রু বিন্দু থাকে, কিন্তু আমরা তা দেখি না। একজন কবির যখন নড়বড়ে সংসার ভেঙ্গে যায়, তখন তার বুক ফেটে যায়- আমরা তাও দেখি না।
আমরা এমন করেই কবির সাথে প্রতারণা করি, কবির হাসি, ঠাট্টা দেখি, তার চোখ দেখি না। স্বপ্নের উদ্যান দেখি, শীতকাল দেখি না … তাকে নিয়ে সবাই, এমনকি তার অন্য কবি বন্ধুরাও সারা জীবন উল্লাস করে গেল, কেউ তার সাথে বাড়ি গেল না, কেউ দেখলো না আনন্দ নিয়ে, সবাইকে আনন্দে ভাসিয়ে কত হিমশীতল ঘরে তিনি ফিরে যেতেন…………
বিদায় কবির মতো কবি- রফিক আজাদ।
কলামিস্ট মার্জিয়া প্রভা ফেসবুকে লিখেন:
আমার দাদু! চলে গেলেন। আমার প্রথম কবিতার বই দাদুর হাত ধরে উন্মোচিত হয়েছিল। বই প্রকাশের আগে কবিতাগুলো পড়া, বাবাকে দিয়ে যাচাই বাছাই করা। দাদুই করেছিলেন।
কত বছর আগের সেই স্মৃতি। দেখা করবো করবো করে আর করা হলো না। শেষ দেখা বিভু আপুর বিয়েতে। সময় ছুটে যায় কত দ্রুত।
দাদু তুমি ভালো থেকো, যেখানেই থাক। তোমার ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’ বেঁচে থাকবে আজীবন। এইখানেই কবির সার্থকতা। কবি চলে যায়, কবিতা থেকে যায়।
সাংবাদিক শেখ মেহেদি হাসান লিখেন,
আমার প্রিয় কবি রফিক আজাদ আর নেই। দাদার জন্য ভীষণ খারাপ লাগছে। বিরিশিরিতে অনেক সময় কাটিয়েছি তার সঙ্গে।







