গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর পাশে টঙ্গীতে টাম্পাকো ফয়লস লিমিটেড নামের একটি প্যাকেজিং কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে প্রায় ৩৯ জন নিহত হয়েছিল। ঘটনাটি বেশ আলোড়ন তুলেছিল, কারখানার নিরাপত্তা বিষয়ে অনেক উপদেশ-করণীয় শোনা গিয়েছিল ওই ঘটনার পরে। বছর ঘুরতে না ঘুরতে আরেকটি অঘটন, গাজীপুরের কাশিমপুরের নয়াপাড়া এলাকায় ‘মাল্টি ফ্যাবস’ নামের কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত। টঙ্গীর ঘটনার পর আবার গাজীপুরে। ঈদের ছুটির পর শতভাগ রপ্তানিমুখী ওই তৈরি পোশাক কারখানাটি খোলার কথা ছিল ৪ জুলাই মঙ্গলবার। সোমবার দুপুরের পর ডাইং ইউনিটের বয়লার সেকশনটি চালু করা হয়। সন্ধ্যায় বিকট শব্দে বয়লারটির বিস্ফোরণ ঘটলে হতাহত হয় কর্মরত শ্রমিক ও পথচারী। গত দুই বছরে টঙ্গী ও গাজীপুরে বিভিন্ন কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে প্রায় ৬০ জনের প্রাণ গেছে। দায়সারা গোছের তদন্ত আর মামলার পরে বিষয়গুলো কিছুদিন পরে হারিয়ে যায়, আর কোনো খবর থাকে না। ৪ জুলাইয়ের ঘটনায় মৃত ৩ শ্রমিকের নামে পুলিশের মামলা আর ১৩ প্রাণহানির বিপরীতে বয়লার পরিদর্শক সংস্থা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে দায়সারা সংস্কৃতির সঙ্গে যেনো রসিকতার সংস্কৃতি যুক্ত করা হয়েছে। স্পেকট্রাম গার্মেন্টস, তাজরীন গার্মেন্টস, রানা প্লাজাসহ বিভিন্ন ঘটনার পরেও কেনো শিল্পমালিক ও সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান কেনো সাবধান ও সঠিক পথে হাঁটছে না, এটা একটি বড় বিস্ময়! মাল্টি ফ্যাবসের বয়লারের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয় এসব বিষয় দেখাশোনা করে থাকে। সারাদেশের বয়লারগুলো পরিদর্শনের জন্য মাত্র ৭ জন পরিদর্শক রয়েছেন। জনবল সঙ্কটের কথা বলে হয়তো এই সংস্থা দায়িত্ব এড়িয়ে যাবে, আর কারখানা মালিক আগের ঘটনাগুলোর মালিকদের মতো ভুলে যাওয়া সময়ের সুযোগে পার পেয়ে যাবে। শ্রমিকদের জীবন নিয়ে এই মরণ খেলা বন্ধ হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। শিল্প ও শ্রমিক নিরাপত্তায় কোনো ধরণের ছাড় না দিতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ সচেতন হয়ে ব্যবস্থা নেবে বলে আমাদের আশাবাদ।









