ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দিয়েছে ইইউ পার্লামেন্ট। ইইউ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিটের ওপর ভোটাভুটিতে ৬২১- ৬৪৯ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। এ অনুমোদনের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদে আর কোন বাধা থাকলো না।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩১ জানুয়ারি মধ্যরাতের পর থেকে ব্রেক্সিট কার্যকর হবে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট নিয়ে ভোটাভুটিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ এমপি বলেন তারা আশা করেছিলেন যুক্তরাজ্য একদিন ইইউ’তে ফিরে আসবে। সেসময় কারো কারো চোখে পানি দেখা যায়। ব্রেক্সিট সম্মতির চিঠিতে সাক্ষরকালে ইইউ পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট ডেভিড স্যাসোলি বলেন, ইইউ ছাড়লেও যুক্তরাজ্য সবসময়ই ইউরোপের অংশই থাকবে ।
এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সংসদ সদস্যদের অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হয় এবং ৩৫৮-২৩৪ ভোটে পাশ হয়। তখন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি করে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তখন সমালোচকরা এই সময়সীমাকে অবাস্তব বলে বর্ণনা করেন। শেষ পর্যন্ত বরিস জনসনেরই জয় হতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৪০ বছরের বেশি সময় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে থাকার পর ২০১৬ সালের ২৩ জুন গণভোটের আয়োজন করেছিল যুক্তরাজ্য। এতে সেদেশের নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল – যুক্তরাজ্যের কি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে থাকা উচিত নাকি উচিত না? ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে, আর থাকার পক্ষে ছিল বাকি ৪৮ শতাংশ ভোট। তারপর বহু চড়াই উতরাই পেরিয়ে সাড়ে তিন বছর পর ইইউ-ইউকে বিচ্ছেদ ঘটতে যাচ্ছে।










