অপ্রত্যাশিত এক ঘোষণায় গত ৮ নভেম্বর মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ভারতে প্রচলিত ৫০০ এবং এক হাজার রুপির নোট বাতিলের নির্দেশ দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কালো টাকার হাত থেকে অর্থনীতিকে বাঁচানোর জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি ছিলো বলে তার সরকার মনে করছে। এমন ঘোষণার পরদিন থেকে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। অস্বস্তি আর ভোগান্তিতে বাড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ-অসন্তোষ। শুরু হয় পুরনো রুপি বদলে নতুন নোট নিতে ভারতবাসীর ‘নোটযুদ্ধ’। ব্যাংক, এটিএম বুথেএবং পোস্ট অফিসের লাইনে তীব্র ভীড় আর ঠাসাঠাসি। এরইমধ্যে নোট বদলাতে গিয়ে কারো কারো লাশ হওয়ার খবরও প্রকাশ করে সেদেশের গণমাধ্যম। তবে নোট নিয়ে সব আলোচনা-সমালোচনা ছপিয়ে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন প্রধানমন্ত্রী মোদির মা হীরাবেন মোদি। খবরে প্রকাশ, ছেলে দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি হওয়ার পরও বিশেষ সুবিধা না নিয়ে অন্য দশজন সাধারণ মানুষের মতোই গুজরাটের রাজধানী গান্ধীনগরের একটি ব্যাংক শাখার লাইনে দাঁড়িয়ে বাতিল নোট বদলে নতুন নোট নিয়েছেন ৯৬ বছর বয়সী হীরাবেন। আমাদের দেশে এমন ঘটনা কল্পনাতীত। এখানে কেউ স্বপ্নেও ভাবেন না এমনকি মন্ত্রী পরিবারের কোনো সদস্য এভাবে সাধারণ মানুষের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে সেবা গ্রহণ করবেন। এদেশে প্রতি পদক্ষেপেই দেখা যায় ক্ষমতাবানদের দাপট। কথায় কথায় তারা বলে দেন, আমি ওমুকের এই, তমুক আমার এটা হয়, ওই মন্ত্রী-এমপি আমার এই হয়, ইত্যাদি। এসব ব্যক্তির ক্ষমতার দাপটে কোনো কোনো সময় সাধারণ মানুষকে ত্রাহি অবস্থায় পড়তে হয়। রাষ্ট্র-সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অধিকার বঞ্চিত হন তারা। ওইসব ব্যক্তির সুবিধায় গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ রাখা হয়, হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগিকে বাদ দিয়ে তাদের জন্য বরাদ্দ হয় বিশেষ সিট বা কেবিন। মন্ত্রী-কর্মকর্তা নামবেন বলে অফিসের লিফট আটকে রাখা হয় দীর্ঘক্ষণ। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-বদলি-ঠিকাদারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে অহরহই দেখা যায় এমন চিত্র। এ অবস্থায় আমরা মনে করি, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মা হীরাবেন মোদি যে দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন; তা আমাদের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। আশা করতে পারি, শিক্ষণীয় এ উদাহরণ থেকে অনেকের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।








