পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তরের কয়েক ঘন্টা পরেই আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর একজন মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (২১ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
পাকিস্তানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, হাসপাতালে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তারপর চিকিৎসকরা তাকে হেফাজতে রাখা নিরাপদ মনে করায় তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মধ্যরাতে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইমরান খানকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এখন তাকে সেলে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-র মতে, হাসপাতালে তার সংক্ষিপ্ত অবস্থানের সময় পিটিআই সমর্থকরা হাসপাতালের কাছে জড়ো হন।
ইমরান খানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কারণ
২০২২ সালের আগস্টে অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীত্ব হারান ইমরান খান। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের করে বর্তমান সরকার। দায়ের করা কিছু মামলায় তার সাজাও হয়েছে। তিনি ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে কারাগারে বন্দি আছেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে সরকারি পণ্য বিক্রির অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে দাবি করেন ইমরান খান, যা সরকার অস্বীকার করেছে।
তার আইনজীবীদের মতে, কারাগারে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এবং তিনি তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হারিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেয় এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ একটি মেডিকেল প্যানেলের কাছে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়।
ইসলামাবাদের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ প্রথমে ঘোষণা করেছিলেন, তারা আদেশটি কার্যকর করবে, কিন্তু পরে শীর্ষ আদালতে এর পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের জন্য একটি আবেদন দাখিল করে।
সরকার বলেছে, মেডিকেল রিপোর্টে এমন কোনো অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়নি যার জন্য ইমরান খানের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন।
ইমরান খানের স্থানান্তরের বিরোধিতা করে পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার যুক্তি দিয়েছেন, আইন অনুযায়ী একজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দীকে অবশ্যই কারাগারের ভেতরে বা একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হবে এবং ইমরান খানের মেডিকেল পরীক্ষাগুলো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে একটি সরকারি হাসপাতালে করার কথা বলেন।










