বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় সর্বকালের সর্বোচ্চ, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র-চীন-ভারত

সেনা সৈনিক একটি যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে, সামরিক অভিযান চলাকালে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছে সুইডেন ভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)। তাদের প্রতিবেদনানুসারে, টানা সপ্তম বছরে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ২০২১ সালে এই সামরিক ব্যয় অতিক্রম করেছে দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
সোমবার প্রকাশিত এসআইপিআরআই’র প্রতিবেদনের নতুন তথ্য অনুসারে আলজাজিরা জানিয়েছে, শীর্ষ পাঁচটি প্রতিরক্ষা ব্যয়কারী দেশের মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, যুক্তরাজ্য এবং রাশিয়া। যারা বিশ্বব্যাপী মোট সামরিক ব্যয়ের ৬২ শতাংশ ব্যয় করেছে।
এসআইপিআরআই-এর জেষ্ঠ্য গবেষক ডিয়েগো লোপেস দা সিলভা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ২০২১ সালে সামরিক ব্যয় টানা সপ্তমবারের মতো বেড়ে ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যা প্রতিষ্ঠানটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয় হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
এসআইপিআরআই এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কোভিড মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পতন সত্ত্বেও দেশগুলো তাদের অস্ত্রাগার বাড়িয়েছে, যার কারণে গত বছরেই বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বেড়েছে দশমিক ৭ শতাংশ।
চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করা রাশিয়ার সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। টানা তৃতীয় বছর এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার৷
রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ দশমিক ১ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ে নির্বাহিত হয়, যার কারণে মস্কোকে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সামরিক ব্যয়কারী দেশ বলেছেন লোপেস দা সিলভা।
অন্যদিকে, রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলের পর থেকে ইউক্রেনের সামরিক ব্যয় বেড়েছে ৭২ শতাংশ। যদিও খরচ ২০২১ সালে আট শতাংশের বেশি কমে গিয়ে ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন হয়েছে, যা ইউক্রেনের জিডিপির ৩ দশমিক ২ শতাংশ।
ন্যাটো দেশগুলো সামরিক ব্যয় বাড়াচ্ছে:
পুরো ইউরোপে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোও তাদের সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
এসআইপিআরআই জানিয়েছে, ন্যাটোর আটটি সদস্য দেশ গত বছর সামরিক ব্যয়ের জন্য জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা দুই শতাংশে পৌঁছে গেছে। লোপেস বলেন, ইউরোপে এই ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যার সামরিক ব্যয় অন্য সব দেশকে ছাড়িয়ে গেছে তাদের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮০১ বিলিয়ন ডলারে, তবে প্রকৃতপক্ষে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার বিপরীতে গিয়ে গত বছর দেশটি এই খাতে তার ব্যয় হ্রাস করেছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
এসআইপিআরআই-এর আরেক গবেষক আলেকজান্দ্রা মার্কস্টেইনার জানান, মার্কিন সরকার বারবারই তার কৌশলগত প্রতিযোগীদের উপর মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত দক্ষতা রক্ষা করার উপর জোর দিয়েছে”।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক ব্যয়কারী চীনের এই খাতে আনুমানিক ব্যয় ২৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং দেশটি বিগত ২৭ বছরে তার সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে।
৭৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সামরিক খাতে ব্যয়কারী দেশ ভারতও ২০২১ সালে তাদের ব্যয় বৃদ্ধি করেছে। তবে তা মাত্র দশমিক ৯ শতাংশ।
চতুর্থ স্থানে আছে যুক্তরাজ্য, যাদের সামরিক ব্যয়ে তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব তাদের ব্যয় ১৭ শতাংশ কমিয়ে ব্যয় দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৫৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।
অস্ট্রেলিয়াও তার সামরিক খাতে চার শতাংশের বেশি ব্যয় করেছে, যা ২০২১ সালে ৩১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।






