বাংলাদেশ

বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা নিয়ে এসেছে আবুল খায়ের গ্রুপ

অক্সিজেন সেবা প্রদানকারী ব্যক্তি, অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পাইপলাইন সহ. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

একজন ব্যক্তি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পাইপলাইন পরীক্ষা করছেন, স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত ছবি।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

বাংলাদেশে করোনার ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে অক্সিজেনের চাহিদা। করোনা রোগীদের বিনামূল্যে লিকুইড অক্সিজেন সহায়তা দিয়ে আসছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক শিল্পগ্রুপ আবুল খায়ের গ্রুপ। এরই মধ্যে ২০টি হাসপাতালে বিনামূল্যে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আবুল খায়ের গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, তরল বা লিকুইড অক্সিজেনের বাড়তি চাহিদা মেটাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে তারা। শুরুর দিকে হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন ৭ টন তরল অক্সিজেন দেয়ার সক্ষমতা থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে প্রায় ৩০ টন। এছাড়া প্রতিদিন রিফিল করা হচ্ছে ৫০০ সিলিন্ডার। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ব্যক্তি পর্যায়ে ১৮ হাজারের বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডার বিনামূল্যে রিফিল করে দেয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে একটি হটলাইন সেবাও চালু করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ।

প্রতিটি ১০-২২ হাজার টাকা দামের ৫ হাজারের বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডার গ্যাসসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও করোনা আইসোলেশন সেন্টারকে অনুদান হিসেবে দেয়া হয়েছে। করোনায় অক্সিজেন সংকট শুরুর পর প্রথম দিকে ১ দশমিক ৪ কিউবিক মিটারের অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করা হলেও পরে ৭ দশমিক ৫ কিউবিক মিটারের অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করা হয়।

ইস্পাত তৈরির ক্ষেত্রে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও কার্বনের প্রয়োজন হয়। আবুল খায়ের গ্রুপ চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের শীতলপুরে অবস্থিত তাদের ইস্পাত কারখানার প্রয়োজন মেটাতে ২০১২ সালে বহুজাতিক কোম্পানি লিন্ডে বাংলাদেশের সহায়তায় অক্সিজেন প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ শুরু করে। ২০১৫ সালে প্লাটটিতে উত্পাদন শুরু হয়। এটির দৈনিক অক্সিজেন উত্পাদনের সক্ষমতা ২৬০ টন।

২০২০ সালে বাংলাদেশে করোনা মোকাবেলায় অতি জরুরি অক্সিজেনের প্রয়োজনে একেএস প্ল্যান্টে উত্পাদিত অক্সিজেন জনস্বার্থে উন্মুক্ত করে দেয় আবুল খায়ের গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব উদ্যোগে ২০টি হাসপাতালে বিনামূল্যে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করে দিয়েছে। চিকিত্সাকাজে অক্সিজেন প্রসেসিংয়ের জন্য নতুন করে সরঞ্জামাদি সংযোজন করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। পাশাপাশি বিদেশ থেকে ৩০০টি অক্সিজেন সিলিন্ডারও আমদানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানের এজিএম মো. শামসুদ্দোহা জানান, ২০২০ সালে বাংলাদেশে করোনা মোকাবেলায় অতি জরুরি অক্সিজেনের প্রয়োজনে একেএস প্ল্যান্টে উত্পাদিত অক্সিজেন জনস্বার্থে উন্মুক্ত করে দেয় আবুল খায়ের গ্রুপ। নতুন করে মেডিকেল অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মেডিকেল অক্সিজেন সহায়তা কার্যক্রম আরও বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে লিকুইড অক্সিজেন ১৫ থেকে ২০ টন সরবরাহ করা হতো এখন সেটি বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ টন করা হয়েছে।

বিষয়:অক্সিজেন করোনাভাইরাস

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…