নিম্ন আদালতের বিচারকদের আচরণবিধি আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ দিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘এর সাথে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জড়িত বলে এ বিষয়ে সমঝোতা হবে না।’
বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের একদিন পরই এমন নির্দেশ দিলেন প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারকদের আচরণবিধি নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে। মাসদার হোসেন মামলার আলোকে মূলত মন্ত্রণালয় থেকে একটি আচরণ বিধি কিছুটা সংযিাজন-বিয়োজন করে পাঠানো হয়েছিলো। এটা ঠিকমতো উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগে উনারা মনে করছেন যেন সামঞ্জস্য থাকে সেটা তারা চান। এটা নিয়ে যেন কোনো রকম দ্বিমত বা ভুলবোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়।
গত ৮ ডিসেম্বর বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে সোমবার আদালতে হাজির করতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের আট বিচারপতির বেঞ্চ।
এদিন দুই সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এবং মোহাম্মদ শহিদুল হক আদালতে হাজির হলে আবারো নিম্ন আদালতের বিচারকদের আচরণবিধি নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতি দুই সচিবের কাছে জানতে চান এই বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য কি? ড্রাফটিং বিভাগের সচিব জানিয়েছে, এটি ভেটিংয়ের জন্য এখনো ড্রাফটিং বিভাগে যায়নি। উপর থেকে যেভাবে নির্দেশনা আসে সেভাবেই প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন, এক্ষেত্রে তাদের কিছুই করার নেই।
প্রধান বিচারপতি আরো বলেছেন, এই বিধিটি আজ হোক,কাল হোক করতেই হবে।
গত বছরের ৭ মে আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর আইন মন্ত্রণালয় শৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি খসড়া বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। তবে আপিল বিভাগ ওই খসড়াটিকে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থি উল্লেখ করে। এরপর সুপ্রিম কোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে ৬ নভেম্বরের মধ্যে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করে আদালতকে জানাতে বলে।
গত ৭ নভেম্বর আপিল বিভাগ অ্যাটর্নি জেনারেলকে এ বিষয়ে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেলকে ২৪ নভেম্বর এবং ১ ডিসেম্বর দুই দফায় আরো দুই সপ্তাহের সময় দেন গেজেট প্রকাশ করতে।
৮ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি শুনানিতে উপস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, “আপনাকে মৌখিকভাবে বলছি, সোমবার সকাল ৯টায় দুই সচিবকে নিয়ে হাজির হবেন। এটা একটা মেসেজ। পারলে ওই দুইজনকে আইনের খসড়া নিয়ে হাজির হতে বলবেন।”









