পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে এবং তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পার হলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক বেকি হার্সব্রো।
রোববার ফ্রি স্টাইলে সমুদ্র স্রোতে চার ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সাঁতার কেটে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত এ চ্যানেল পাড়ি দেন তিনি। তাকে সহায়তা দিয়েছেন এভারেস্ট একাডেমির একটি দল ও দলের থাকা দুটি নৌযান।
বেকি হার্সব্রো এপি এর এশিয়ার প্রযোজক হিসাবে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম এশিয়ান হিসাবে যেখানে ব্রজেন দাস ইংলিশ চ্যানেল পারি দেন। সেখানে তিনিই প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক, যিনি বাংলা চ্যানেল অতিক্রম করলেন। তিনি বাংলা চ্যানেলকে ব্রিটিশদের কাছে সুপরিচিত করে তুলতে চান। পাশাপাশি বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে ‘ক্রীড়াপ্রেমী’ দেশ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে চান।
বাংলাদেশের প্রথম হিমালয় আহরোনকরী মুসা ইব্রাহিম এসময় তার সঙ্গে ছিলেন। বেকি হার্সব্রো বাংলা চ্যানেল অতিক্রম করার পর তিনি বলেন, আমি খুবিই আনন্দিত, সে এটা করতে পেরেছে ।
এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বেকি বলেন: ১৯৫৮ সালে ব্রজেন দাশ একজন বাংলাদেশি হিসেবে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেছিলেন। আর আমি প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে বাংলা চ্যানেল অতিক্রম করতে এসেছি। আমি খুব উজ্জীবিত।

বেকি হার্সব্রো সাঁতারের একজন দক্ষ প্রশিক্ষক। এর আগে তার টানা নয় কিলোমিটার সাঁতারের রেকর্ড থাকলেও এবারই প্রথম টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনসের ১৬ কিলোমিটারের পার হওয়ার চ্যালেঞ্জ নিলেন।
বাংলাদেশে প্রতিদিনের পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুহার দারুণভাবে ব্যথিত করেছে বেকিকে। ইন্টারনেট ঘেঁটে বাংলাদেশের পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা দেখে তিনি অবাক হন। বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে যেখানে ৫০ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়, সেখানে যুক্তরাজ্যে বছরে মারা যায় মাত্র ১৫ জন। শিশু মৃত্যুর এ ভয়াবহতা নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যেই তিনি বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পার হওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন বলে জানান।








