গত কয়েক বছর ধরে পাবলিক পরীক্ষার আগের রাতে বা সকালে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবার পরিস্থিতিতে নাকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ গোটা জাতি। সরকারের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হলেও ফাঁসের ঘটনা ঘটে আসছে প্রায় সব পরীক্ষার আগে। এই অবস্থায় যে কোনো মূল্যে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করতে চান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সেজন্য পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা গুজব এড়াতে পরীক্ষার দিন সকাল থেকে ৫/৬ ঘণ্টা করে ফেসবুক ও ইন্টারনেট বন্ধ করার কথা ভাবছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২৫ জানুয়ারি বিটিআরসির সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক শেষে এমনটিই জানা গিয়েছিল। তবে ইন্টারনেট-ফেসবুক বন্ধের খবরে সামাজিক মাধ্যমে নানামুখী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত ইন্টারনেট ও ফেসবুক কোনো কিছুই বন্ধ হচ্ছে না বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘আগে প্রশ্নপত্র বিজি প্রেস থেকে ফাঁস হয়ে যেতো। সেখানে নানা ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে এখন সেখান থেকে প্রশ্নফাঁস হয় না। তবে দেড় মাস ধরে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা হয়। তাই দীর্ঘ দিন হাজার হাজার কেন্দ্রে পাহারা দিয়ে প্রশ্ন রাখা বড় কঠিন কাজ। ওইসময়ে প্রশ্নগুলো যখন স্কুলে পৌঁছায়, কিছু শিক্ষক আছেন, তারা প্রশ্ন বিলির আগে খুলে ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। আমরা এই জায়গাটায় আটকে গেছি। তাই বলেছি, বিটিআরসি’র সঙ্গে আলাপ করবো। তারা ওই প্রক্রিয়ায় কোনো সহযোগিতা করতে পারেন কি-না। আমরা কখনো বন্ধ করে ফেলবো, এই কথা বলতে পারি না, আমাদের ক্ষমতাই নেই। বিটিআরসি বলেছে সহযোগিতা করবে, তারা বলেছে (ফেসবুক) বন্ধ না করেও অন্যভাবে সহযোগিতা করবে। জনগণের ব্যাঘাত সৃষ্টির জন্য আমরা কিছু বলিনি।’ শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যে তার আন্তরিকতা যেমন ফুটে উঠেছে, তেমনি তার অসহায়ত্বও। তারপরেও আমরা তার আন্তরিকতার প্রতি আস্থা রাখতে চাই, আস্থা রাখতে চাই বিটিআরসিসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপরে। মাঠপর্যায়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সেই প্রশ্নপত্র সংগ্রহে অভিভাবকদের আগ্রহের কারণে উৎসাহী হয়ে উঠছে প্রশ্নফাঁসকারী চক্র। মোটা অংকের লেনদেনের কয়েকধাপ পার হয়ে প্রশ্নপত্র পৌঁছাচ্ছে অভিভাবকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে। মেধা যাচাই আর শিক্ষা মূল্যায়নের জন্য যে পরীক্ষা, তা পরিণত হয়েছে টাকার বিনিময়ে প্রতিযোগিতার খেলায়। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উৎসাহী ক্রেতা হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করার ধারা বন্ধ করতে হবে। এ অশুভ প্রক্রিয়া বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ অভিভাবক মহলেরও রয়েছে বিরাট দায়িত্ব। এছাড়া দুদকের ‘শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিমে’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুসারে যে ৩৯ দফা সুপারিশ দেয়া হয়েছিল তাও নজরে এনে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা জরুরি বলে আমরা মনে করি। আমাদের আশাবাদ, সামাজিক সচেতনতা ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জাতির মেরুদণ্ড শিক্ষা কার্যক্রম ধ্বংসের এই প্রক্রিয়া বন্ধ হবে।









