বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিমুখী মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসার সঠিক ধারণার পাশাপাশি কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিতে এগিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক সংস্থা স্প্রিং অ্যাকসিলারেটর। এ জন্য আগ্রহী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্থাটির সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন এ ঘোষণা দেন স্প্রিংয়ের প্রধান নির্বাহী রামোনা লিবেরফ।
যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা ডিএফআইডি, ইউএস এইড, নাইকি ফাউন্ডশন ও অস্ট্রেলিয়ান এইডের অর্থায়নে পরিচালিত হয় স্প্রিং।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পূর্ব আফ্রিকা আর দক্ষিণ এশিয়ায় উদ্ভাবনী পণ্য, সেবা এবং ব্যবসার রূপরেখা নিয়ে কাজ করে এমন অনেক প্রবৃদ্ধিমুখী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কিশোরীরা উপকৃত হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করে থাকে স্প্রিং। ওইসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ত্বরান্বিত করতে বিশ্বমানের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা নয় মাসব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
রামোনা লিবেরফ বলেন, ‘আমাদের এক মৌলিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের বাজারে কিশোরীদের জন্য উন্নতমানের পণ্য ও সেবার দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মোবাইল ও ডিজিটাল সার্ভিসেস, নিরাপদ পরিবহন, পরিস্কার পানি, উন্নত শিক্ষা খাত।’
‘‘তবে যারা ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের নিয়ে কাজ করে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।’’
এ সময় স্প্রিংয়ের সহায়তা নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশের-এমন দুইটি প্রতিষ্ঠান আইসোশ্যাল ও ড্রিঙ্কওয়েলকে পরিচয় করে দেয়া হয়।
কি ধরনের সহায়তা পেয়েছেন জানতে চাইলে আইসোশ্যালের হেড অব বিজনেস ওমর সেরনিয়াবাত চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমরা সাধারণত সেনেটারি ন্যাপকিন, বীজ জাতীয় পণ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠির কাছে পৌঁছে দেই। এছাড়া সেবাখাত হিসেবে গর্ভবতী নারী এবং শিশুর স্বাস্থ্যবিষয়ক মুঠোফোনভিত্তিক তথ্যসেবা দিয়ে থাকি।
১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী কিশোরী ও নারীদের মাধ্যমে এসব পণ্য ও সেবা প্রদান করা হয় বলে জানান তিনি।
স্প্রিংয়ের কার্যতক্রম সর্ম্পকে জানতে চাইলে সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর মিনহাজ আনোয়ার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, স্প্রিং বিশ্বমানের ব্যবসা দাঁড় করাতে কাজ করে । বিশেষ করে কিভাবে আর্থিক সেবা পাওয়া যাবে সে বিষয়ে ধারণা, ব্যবসার সঠিক মডেল দাঁড় করানোর কলা-কৌশল, ব্যবসার মডেল, ব্যবসায়িক কার্যক্রমসহ নানা বিষয়ে ধারণা দেয়। আর এসব ধারণা দেয়া হয় আন্তর্জাতিকমানের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে।
তবে যারা উদ্যোমী, টেকসই ও আধুনিক পদ্ধতিতে ব্যবসা করতে চায় এবং কিশোরীদের সম্পৃক্ত করেছে বা করতে চায়-এমন প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধীকার ভিত্তিতে সহায়তা করে বলে জানান মিনহাজ আনোয়ার।
স্প্রিংয়ের সহায়তা পেতে আগ্রহীদের http://www.springaccelerator.org/cohort-4-application/ এই লিংকে আবেদন করার জন্য বলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইউএসএইড-এর উপ-পরিচালক ও প্রোগ্রাম অফিসার জাস্টিন ডাট্টা এবং অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ডেপুটি হেড অব মিশন স্যালি-অ্যান ভিনসেন্ট ও বাংলাদেশের অন্টরপ্রনরশিপ ইকোসিস্টেমের বিনিয়োগকারী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তারা।









