নাজমুল হক বাংলাদেশের লালমনিরহাটের মোঘলহাট থেকে বেশ কয়েকবার ভারতে ফোন করে বললেন যেন তার আসল নামটা কিছুতেই প্রকাশ না করা হয়। কারণ বন্যা থেকে বাঁচতে তিনি কোন বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢুকে উত্তরাঞ্চলের মোঘলহাট শহরের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন বলে ‘দ্য হিন্দু’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নাজমুলের বাড়ি পশ্মিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার উত্তরপূর্ব সীমান্ত লাগোয়া দরিবশ গ্রামে। মোঘলহাট থেকে হেঁটে তার বাড়ি যেতে মাত্র ১৫ মিনিট লাগে। দরিবশের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ধরলা নদীতে পানি বেড়ে সম্প্রতি গ্রামে ঢুকে গেছে। নদীটা নাজমুলের বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। পাশের গ্রাম জারিধরলা তো প্রায় পুরোপুরিই পানির নিচে।
নিজ গ্রামে বন্যার পানি বাড়তে থাকায় নিরূপায় হয়ে গত সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে নাজমুল তার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বাবা-মাকে নিয়ে গ্রাম ছাড়েন।
নাজমুল হক জানান, বন্যা কবলিত দরিবশ ও জারিধরলা থেকে কয়েক হাজার লোক মোঘলহাটের ইউনিয়ন পরিষদ বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে। অনেকে আবার বাংলাদেশে থাকা আত্মীয়দের বাসায়ও উঠেছে। ‘আমরা এবারের স্বাধীনতা দিবস বাংলাদেশেই পালন করব’ মঙ্গলবার দ্য হিন্দুকে বলেন তিনি।
নিজের সক্ষমতাকে বাড়িয়ে নিয়ে কোচবিহারের কয়েক হাজার নারী, পুরুষ ও শিশুকে আশ্রয় দেয়ার জন্য ভারতের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী রবীন্দ্র নাথ ঘোষ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সরকার কোনোরকম অভিযোগ-অনুযোগ ছাড়াই কোচবিহারের কয়েক হাজার মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে এবং খাবারের ব্যবস্থা করেছে বলে ধন্যবাদ জানান তিনি।








