বোলিংয়ের মতো কথাবার্তায় সপ্রতিভ নন মোস্তাফিজুর রহমান। যদিও সময়ের সঙ্গে কিছুটা বদলেছেন নিজেকে। আগে প্রশ্নের উত্তর দিতেন দুই-তিন শব্দে। এখন শেষ করেন কয়েক বাক্যে। বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার পর টের পাওয়া গেল কাটার মাস্টারের মাঝে এসেছে পরিবর্তন।
একটি পরিবর্তন অবশ্য কখনোই চান না মোস্তাফিজ। দেশি-বিদেশি মিডিয়া কিংবা পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ইংরেজিতে কথা বলার চেষ্টা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চান। সবখানে, সবসময় কথা বলতে চান মায়ের শেখানো ভাষা বাংলায়।
মাঠে দুর্দান্ত, কিন্তু ইংরেজিতে দুর্বল- এমন উদাহরণ শুধু বাংলাদেশ দল কেনো, উপমহাদেশের ক্রিকেটে আছে অনেক। অনেক খেলোয়াড়ই তার মাতৃভাষায় কথা বলেন। সেটির ইংরেজি অনুবাদ করে দেন মিডিয়া ম্যানেজার অথবা ধারাভাষ্যকার।
অনেক খেলোয়াড়ই উঠে আসেন সাধারণ পরিবার থেকে। খেলার নেশায় ছুটে স্কুলের গণ্ডি পেরোনো হয় না অনেকের। সে অর্থে ইংরেজি শেখা হয়ে ওঠে না। ব্যতিক্রমও অবশ্য আছে। অনেকে নিজের চেষ্টায় শিখে ফেলেন ইংরেজিটা। করেন ইংরেজি শেখার কোর্স।
অনেকে চেষ্টা করেন নিজেকে বদলাতে। মোস্তাফিজ এসবের কিছুই ধার ধারেন না। সোজা জানিয়ে দিলেন, ‘আমি বাংলায় কথা বলতে চাই। যেভাবে আছি সেভাবে থাকতে ভালোবাসি। কারা কী করে..! বাংলায় কথা বলতে ভালো লাগে। এইটা আমার মা শিখাইছে ভাই।’
জাতীয় দলে মোস্তাফিজের জায়গাটা আগের মতো মজবুত নেই। শুরুর দিকে তিন সংস্করণেই রাজত্ব করা এ পেসার টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছেন বেশ কয়েকবার। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আছেন সাদা বলের বিবেচনায়।
এতেই প্রমাণ হয় লাল বলের ক্রিকেটে মোস্তাফিজের উপর নির্ভরতা কমে গেছে। তবে তিনি নিজেকে গুটিয়ে ফেলতে চান না। সরাসরি জানিয়েছেন খেলতে চান সব ধরনের ক্রিকেটেই। পাশাপাশি দিয়েছেন একটি সুসংবাদও।
নিজের প্রথম বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২০ উইকেট শিকার করার পর লর্ডসের মিক্সড জোনে দাঁড়িয়ে মোস্তাফিজ বলেছিলেন, আরও ভালো করতে বল কীভাবে ভেতরে ঢোকানো যায়, অর্থাৎ ইনসুইং নিয়ে কাজ করতে হবে। সে উপলব্ধির ফল মিলতে শুরু করেছে। ক্যারিবীয় পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের সঙ্গে কাজ করে কিছুটা উন্নতি টের পাচ্ছেন।
‘আমার কাছে ভালোই মনে হচ্ছে (বল ভেতরে ঢোকানো)। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুইটা টি-টুয়েন্টি খেললাম, দুইটা ওয়ানডে খেললাম। ওয়ানডেতে ১০ ওভার, টাইম পাওয়া যায়। প্রথম স্পেলে চেষ্টা করেছি বল ভেতরে ঢোকানোর। বেশি না হলেও দু-একটা বল কাছাকাছি হয়েছে। আসতেছে… (ভেতরে ঢোকানো)। একদিনে তো হয় না সব। দুই সপ্তাহ কাজ করছি বল ভেতরে ঢোকানো নিয়ে নতুন কোচের সঙ্গে।’








