মাটি, পানি ও পরিবেশকে রক্ষা করে সফলের নিবিড়তা বাড়ানোই সময়ের চ্যালেঞ্জ। দেশের খরা প্রবণ অঞ্চলের জন্য এই চ্যালেঞ্জ আরো বড়। এ ক্ষেত্রে কৃষক নতুন এক আশার আলো খুঁজে পেয়েছেন সংরক্ষণ পদ্ধতির চাষাবাদের মাধ্যমে।
নামমাত্র চাষ দিয়ে, পরিমিত বীজ প্রয়োগ ও সেচ দিয়ে পাওয়া যাচ্ছে কাঙ্খিত ফলন। উপরোন্ত বাড়ছে শস্যের নিবিড়তা। এর জন্য শুধু পাওয়ার ট্রিলার চালিত এই রোপনযন্ত্রই যথেষ্ট। এই যন্ত্রই টেনে দিচ্ছে ফসলের ধরণ উপযোগী সারি।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী বিজয়নগরের কৃষক সাব্বির আহমেদ বলেন, গম, মুগ, মশুর, ভুট্টা এবং ধানও লাগাতে পাচ্ছি এ জমিতে। এ পদ্ধতিতে পানি দিলে গম লাল হয় না, শীষটা একই সময়ে পাকে। ইঁদুরে আক্রমণ প্রায় আশি ভাগ কমেছে।
রাজশাহীর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডক্টর ইলিয়াস হোসেন বলেন, নালা থাকার কারণে ইঁদুর এখানে আসতে পারে না। উঁচু নীচুতে ওদের চলাচলে অসুবিধা হয়। রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে এই প্রযুক্তি বেশি কাজে লাগছে। তবে এই প্রযুক্তিটা সারা বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য।
জয়বায়ুর পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারসহ নান কারণে যেসব অঞ্চলে পানির স্তর নীচে নেমে গেছে সেখানেই কার্যকর হচ্ছে যন্ত্রটি। ইতোমধ্যে এর ব্যবহার ছড়িয়ে গেছে কয়েকটি জেলায়।
এই পদ্ধতি অনুসরণ করায় কয়েকভাবে কমে গেছে ফসল আবাদের ব্যয়। যা আশা জাগিয়েছে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকের মনে।
কৃষক আলী বলেন, এই প্রযুক্তিতে কাজ করলে চাষ মই কম লাগে, পানিও কম লাগে। রাজশাহীর গম গবেষণা কেন্দ্রের মেশিন অপারেটর শফিকুল ইসলাম বলেন, এই মেশিনে এক বিঘা জমি করতে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লাগে।চার থেকে পাঁচশ টাকা নেওয়া হয়। আর লাঙ্গল দিয়ে করতে হাজার থেকে বারো’শ টাকা খরচ হয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর ৫৪টি দেশ অনেক আগেই গেছে সংরক্ষণ পদ্ধতির কৃষিতে। পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্যও এ পদ্ধতির অনুসরণ সময়েরই দাবি।
রাজশাহীর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডক্টর ইলিয়াস হোসেন বলেন, মেক্সিকো, চীন, জাপান ভারতেও প্রচুর পরিমাণে সংরক্ষণ পদ্ধতিতে চাষাবাদ হচ্ছে।
‘ষোল চাষে তুলা, তার অর্ধেক মুলা, তার অর্ধেক ধান বিনা চাষে পান’, সময়ের প্রয়োজনে খনার এ বচন যেন কৃষির জন্যে পাল্টে গেছে। কম খরচ কম শ্রম, কম উপকরণে এই চাষ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকের মধ্যে আসছে একটা নতুন উদ্যোগ।
কৃষির এই সফলতাটুকু যদি প্রতিকূল এলাকাগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে ফসল উৎপাদনে নতুন একটা বিল্পব তৈরি হবে।









