ফেসবুক নিয়ে ক্রমাগত বিতর্কের পর এখন নেতিবাচক খবরের শিরোনামে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারিতে অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সুবিধে করে দিতে ৫ কোটি ব্যবহারকারীর গোপন তথ্য ফাঁস করেছে ফেসবুক।
এমন খবর প্রকাশের পর থেকেই টেক দুনিয়া ছাড়িয়ে রাজনৈতিক খবরের শিরোনাম হয়েছে মার্ক জাকারবার্গের বিশ্বাস ভঙের জন্য ক্ষমা। অনেক নেতৃস্থানীয় প্রযুক্তি শিল্প প্রতিষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ব্রিটেনের সংবাদপত্রে ও নিন্দা জানানো হয়েছে ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতাকে। দেশে দেশে শুরু হয়েছে #ফেসবুক ডিলেট ক্যাম্পেইন। অনেকে এখন সচেতন হয়েও পারছে না নিজের তথ্য মুছে ফেলতে।
মুছে ফেলা যাচ্ছে না অ্যাকাউন্ট
কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারের পর অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের গোপনীয়তার জন্য ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার সময় দেখছে যে সামাজিক এ মাধ্যমটি তাদের ধারণার বাইরে অনেক তথ্য সঞ্চয় করে রেখেছে। যা ওই ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশার বাইরে। তবে এ ঘটার পর পরই সারা বিশ্ব জুড়ে হাজার হাজার মানুষ তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট গোপনীয়তা বিষয়গুলি মুছে ফেলতে শুরু করেছে। কিন্তু তারা তাদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা যাচ্ছে না।
জাকারবার্গকে ‘নিন্দা’
অনেক নেতৃস্থানীয় প্রযুক্তি শিল্প প্রতিষ্ঠান ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার পরামর্শ দেন। এবং ফেসবুকের অগ্রদূত এবং মার্ক জুকারবার্গকে নিন্দা করে বলছে, গত সপ্তাহে তথ্য ফাঁস কেলেঙ্কারি বিষয় স্বীকার করে নিয়েছেন জাকারবার্গ।
আরও বলা হয়, জাকারবার্গ স্বীকার করেছেন যে ফেসবুক থেকে অন্তত ৫ কোটি ইউজারের গোপন তথ্য তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে গিয়েছে। এই তথ্য ফাঁসের জন্য নিজেদের সুরক্ষা ব্যবস্থাকেই দায়ী করে নিয়েছেন তিনি।
#ডিলেট ফেসবুক আন্দোলন
সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে #ডিলেট ফেসবুক আন্দোলন শীর্ষস্থানীয় প্রবণতাগুলির মধ্যে একটি।
ফেসবুক কেলেঙ্কারিতে উঠে আসে, ফেইসবুকে লগ ইন করে ব্যবহারকারীরা যখন তাদের প্রোফাইল মুছে ফেলার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা নিতে থাকে তার আগেই ‘ফেসবুক’ ব্যবহারকারীদের সমস্ত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে থাকা ইনকামিং এবং আউটগোয়িং কল সমস্ত এসএমএস বার্তা রেকর্ড ফেসবুকের কাছে চলে যায়।
তাই এই লক্ষ্যে শুরু করা হয়েছে #ডিলেট ফেসবুক ক্যাম্পেইন এবং অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার আন্দোলন।
অ্যান্ড্রয়েডে ফোনে ‘মেসেঞ্জার’ থেকে অনুরোধ
গার্ডিয়ান বলছে, অনেকসময় অ্যান্ড্রয়েডে ফোনে ‘মেসেঞ্জার’ থেকে অনুরোধ করা হয় সমস্ত কল এবং এসএমএস লগগুলি পড়ার অনুমতির জন্য।
‘মেসেঞ্জার’ এই অপশনের মধ্য দিয়ে ফেসবুক এই সমস্ত তথ্য পেয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে ফেসবুক অ্যাকাউন্টি মুছে ফেললে ওই সমস্ত তথ্য ফাঁসের ঝুকি থেকে নিজের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা যেতে পারে।
সংবাদপত্রের পাতা জুড়ে ব্রিটিশদের কাছে ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতার ‘ক্ষমা’
রোববার ব্রিটিশ সংবাদপত্রে পুরো কাগজ জুড়ে বিজ্ঞাপনের মত ছিল ফেসবুকের তথ্য কেলেঙ্কারিতে মার্ক জাকারবার্গের ক্ষমা। ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গ কর্তৃক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।সংবাদপত্র গুলোতে বলা হচ্ছে ফেসবুক ৫০ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর বিশ্বাস লঙ্ঘন করেছে।
ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গ কর্তৃক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আমরা আপনার তথ্য রক্ষা করার একটি দায়িত্ব নিচ্ছি যদি আমরা না করতে পারি, আমরা এটির প্রাপ্য নই’।
আমেরিকানরা ফেসবুকের ‘প্রতি আস্থা’ এবং ‘বিশ্বাস’ হারিয়ে ফেলছে
যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানিতে রোববার এক জরিপে উঠে আসে, ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার বিষয়ে তারা এখন ফেসবুকের ওপর আস্থা এবং বিশ্বাস রাখতে পারছে না। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সন্দেহ করছে যে, কোন পদক্ষেপ পর্যন্ত তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি নিরাপদ থাকবে?
অনেকে বিশ্বাস করেছেন, ফেসবুক অবশ্যই ইউএস আইন মেনে চলবে।
জার্মানিতে প্রতিক্রিয়া
জার্মানির বেস্ট সেলার পত্রিকা ‘সানডে’ বলছেন, ৬০ শতাংশ ফেসবুক ব্যবহারকারী উদ্বিগ্ন তাদের গণতন্ত্রে সোশ্যাল সামাজিক নেটওয়ার্কগুলি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
১৬ মার্চ ফেসবুকের তথ্য ফাঁসের কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আনে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা। তারা দাবি করে ফেসবুকের অন্তত ৫ কোটি ইউজারের তথ্য তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে গিয়েছে। এই সব তথ্য শুধুমাত্র ফেসবুক ও ইউজারদের মধ্যেই থাকার কথা বলেও দাবি করে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা।
এই কেলেঙ্কারির পর চার দিন ধরে ফেসবুকের শীর্ষ কর্তারা কেউই কোনও প্রতিক্রিয়া দিচ্ছিলেন না। অবশেষে এক বিবৃতিতে নিজের প্রতিক্রিয়া দেন ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ।
তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে ইতিমধ্যেই ফেসবুক ব্যবস্থা নিয়ে নিয়েছে।










