২০১৫ থেকে বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের সাফল্যের পেছনে বড় কারণ ছিল নতুন বলে উইকেট নেয়ার সক্ষমতা। কিন্তু ২০১৯’র শুরু থেকেই যেন চিত্রটা আলাদা। এই সময়ে বাংলাদেশের পেসাররা প্রথম পাওয়ার-প্লে’তে নিতে পেরেছেন মাত্র সাতটি উইকেট। স্ট্রাইক রেট ১১৩.১৪ এবং বোলিং গড় ১০৩!
এই প্রথম সমস্যাটিই নতুন বোলিং কোচ চার্লস ল্যাঙ্গাভেল্টকে ঠিক করার চেষ্টা করতে হবে। চ্যালেঞ্জ অবশ্য নিজেও নিয়েছেন সাউথ আফ্রিকার সাবেক তারকা।
বাংলাদেশের বেশিভাগ সিরিজই হয় ঘরের মাঠে। ফলে দেশের চেনা ও উইকেটে বলটা বেশ ভালোই করেন বোলাররা। কিন্তু বাইরে গেলেই সেটা পাল্টে যায়। এই যেমন মোস্তাফিজুর রহমান। বিশ্বকাপে ২০ উইকেট পেলেও ইনিংসের অন্তত ৩০ ওভার শেষ হওয়ার আগে কোনো উইকেট নিতে পারেননি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন, সেটাও ২০ বা তার চেয়ে বেশি ওভার পরে।
তবে সাউথ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের হয়ে কাজ করা ল্যাঙ্গাভেল্ট বলছেন, বাংলাদেশের এই বোলিং লাইনআপ বিশ্বের যেকোনো জায়গাতেই সফল হতে পারে। সেজন্য তাদের ধারাবাহিকতা এবং ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশে পেসারদের ধারাবাহিকতা ও ফিটনেস নিয়ে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক এই প্রোটিয়া পেসার। ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, ‘নতুন বলে সব ফরম্যাটেই ধারাবাহিক হতে হবে। টানা লেন্থে বল ফেলতে হবে। কমপক্ষে ৪ থেকে ৫টা বল লেন্থে রাখতে হবে। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেয়ার পর আমি এগুলো নিয়েই কাজ করব। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ বেশিরভাগ সময়ই একজন অথবা দুজন পেসার নিয়ে খেলে। কিন্তু সাউথ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ায় যখন খেলতে যাবেন তখন কমপক্ষে তিনজন পেসার নিয়ে খেলতে হবে।’
ল্যাঙ্গাভেল্টের আরও সংযোজন, ‘আমার কাজ হবে ফিট তিনজন পেসার খুঁজে বের করা। যারা ধারাবাহিকভাবে লাইন-লেন্থ ধরে আক্রমণাত্মক বল করতে পারবে। আপনি যদি সেরা হতে চান তবে আপনাকে নতুন বলের সাথে সামঞ্জস্যতা রাখতে সক্ষম হতে হবে। আপনাকে লেন্থের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। সে (মুস্তাফিজুর রহমান) গতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভালো তবে নতুন বলের সেটা করা খুব কঠিন। এই জায়গাগুলো ঠিক করতে হবে।’
বাংলাদেশ দলের বোলিংয়ে প্রধান অস্ত্র স্পিন। বরাবরের মতোই বিদেশের মাটিতে ধুঁকতে হচ্ছে টাইগার পেসারদের। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস বিশ্বকাপেও নতুন বলে পেসারদের ধুঁকতে হয়েছে।
২০১৭ সালে সাউথ আফ্রিকা সফরে যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তখন প্রোটিয়াদের বোলিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন ল্যাঙ্গাভেল্ট। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল টাইগাররা। সে সফরে টাইগার পেসাররা নিতে পেরেছিল মাত্র ৯ উইকেট।
তাই বাংলাদেশের বোলিং কোচের দায়িত্বটা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন ল্যাঙ্গাভেল্ট। তিনি বলেন, ‘এটা আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। কয়েক বছর আগে আমি যখন সাউথ আফ্রিকার বোলিং কোচ ছিলাম। তখন বাংলাদেশের বিপক্ষে আমরা খেলেছিলাম। আমি দেখেছি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পেসাররা সংগ্রাম করছিল। তারা ধারাবাহিকভাবে লাইন এবং লেন্থ ধরে বল করতে পারছিল না। এটাই আগে ঠিক করতে হবে। যদি দেখি যে এটা টেকনিক্যাল সমস্যা তাহলে আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে।’
একটা সময় পেস বোলিং নিয়ে চরম সমস্যার মধ্যদিয়ে গেছে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত। কিন্তু সেই ভারতেই যেন পেস বোলিংয়ের বিপ্লব ঘটেছে। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা পেস অ্যাটাক ভারতীয়দের। ল্যাঙ্গাভেল্ট বলছেন, এটাই প্রমাণ করছে যে, উপমহাদেশের দলগুলোও বিদেশের মাটিতে ভালো করতে পারে।
তার কথায়, ‘আপনি ঘর ছেড়ে যখন বাইরে খেলতে চাইবেন, তখন আপনার ভালো পেসার লাগবে। ভারত উন্নতি করেছে, কারণ, তারা বিশ্বজুড়েই ভালো খেলেছে। তাদের ভালো স্পিনার আছে, তবে সেই সঙ্গে দারুণ পেসারও। আমি এটা নিশ্চিত করতে চাই যে, কয়েকজন (বাংলাদেশ) বোলার সিস্টেমের মাধ্যমে আসবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে।’
ল্যাঙ্গাভেল্ট বলছেন তিনি সেই ধরণের বোলিং কোচ যিনি খেলোয়াড়দের সামনে দাঁড়াতে পছন্দ করেন, যাতে তিনি দ্রুত তাদের শক্তি এবং দুর্বলতাগুলো সনাক্ত করতে পারেন, ‘আমি প্রথমে বোলারের কাছে যাব, তার সাথে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। তিনি কি মনে করেন? তারপরে আমি তার উপর আমার কোচিং দর্শন বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব এবং তাকে বলব, যদি আপনি বিশ্বের একনম্বর বোলার হতে চান তবে আপনার যা করা দরকার তা হল এই…।









