চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে পা রাখতে অন্তত দুটি গোল করার সঙ্গে নিজেদের জালও অক্ষত রাখতে হত পিএসজিকে। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ ঘরের মাঠের মত প্যারিস জায়ান্টদের মাঠেও জয় তুলে শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষত রাখায় সেই সমীকরণ মেলানো হয়নি কাভানি-এমবাপেদের। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও কাসেমিরোর গোলে পিএসজিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে জিনেদিন জিদানের দলই।
এই জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ গোলের অগ্রগ্রামিতায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আট নিশ্চিত করল লস ব্লাঙ্কোসরা। প্রথম লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ৩-১ গোলে জয় পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল।
ক্লাব হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের বয়স হয়ে গেল ১১৬ বছর। ১৯০২ সালে এই দিনেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটি আরও রঙিন করে তুলল রোনালদোদের প্যারিস জয়ের উৎসব।
মঙ্গলবার রাতে ম্যাচের শুরুতে রিয়াল ছিল এলোমেলো। আবার সামলেও নিয়েছে দ্রুতই। সেখানে ঘরের মাঠ পার্ক ডেস প্রিন্সেসে নেইমারবিহীন পিএসজি প্রথমার্ধের প্রায় পুরোটা ভাগই থাকল ছন্নছাড়া। সময়টাতে রিয়ালের গোলবার বরাবর কেবল ৩টি শট নিতে পেরেছে স্বাগতিকরা। ২০১৫ সালের পর যা সবচেয়ে কম।

ছন্দ খুঁজে নিয়ে ছড়ি ঘোরাতে শুরু করে রিয়াল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে মার্কো আসেনসিওর ক্রসে সার্জিও রামোসের আচমকা ভলি স্বাগতিক গোলরক্ষক আরিওলা ঠেকিয়ে না দিলে পিএসজির স্বপ্নের মৃত্যু হত তখনই।
পিএসজি রক্ষণকে ৩৮ মিনিটে আরও একটি শক্ত ধাক্কা দিয়েছিলেন করিম বেনজেমা। ফাঁকায় বল পেয়েও অবশ্য স্বাগতিক গোলরক্ষককে বোকা বানাতে পারেননি ফরাসি ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের শেষভাগে ডি-বক্সের ভেতর দুটি ভাল সুযোগ হারায় পিএসজিও। ৪১ মিনিটে ডি মারিয়ার দুর্বল শট ফিরিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক নাভাস। দুই মিনিট পর কাইলিয়ান এমবাপের জোরাল গতির শট ফিরিয়ে দিয়ে জাল অক্ষত রাখেন এ কোস্টারিকান গোলরক্ষকই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্যারিসের দর্শকদের মন ভেঙে দেন রোনালদো। ৫১ মিনিটে লুকাস ভাসকুয়েজের উড়ন্ত পাসে পর্তুগিজ তারকার তড়িৎ গতির হেড পিএসজি গোলরক্ষককে দর্শক বানিয়ে ঠাই নেয় জালে। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি রোনালদোর ১২তম গোল।
ম্যাচের ৬৬ মিনিটে পিএসজির দুর্গতি বাড়ান মার্কো ভেরাত্তি। প্রিয় বন্ধু ডেভিড আস্তোরির মৃত্যু শোক ভোলার সময়টাতে শুরু থেকেই রিয়ালের উপর চড়াও হয়ে খেলেছেন ইতালিয়ান মিডফিল্ডার। তার পরিণামে দুই হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখিয়ে স্বাগতিকদের দশজনের দলে পরিণত করেন রেফারি।
এরপর ম্যাচে সমতা ফেরায় পিএসজি। ৭১ মিনিটে হাভিয়ের পাস্তোরের মাথা ছোঁয়া বল নাভাস ফিরিয়ে দিলেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি। তার ফিরিয়ে দেয়া বল এডিনসন কাভানির গায়ে লেগে জড়ায় জালে।

সেখান থেকে পিএসজিকে ম্যাচ হতে বের করে দিয়েছেন কাসেমিরো। ৮০ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ালে সহজ জয়ের সঙ্গে শেষ আটও নিশ্চিত হয় লস ব্লাঙ্কোসদের।
রাতের অন্য ম্যাচে ঘরের মাঠে পোর্তোর বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেও সহজেই শেষ আটে পা রেখেছে লিভারপুল। অ্যানফিল্ডের ড্রয়ের আগে প্রথম লেগে পোর্তোর মাঠে ৫-০ গোলে জিতে আসাই কোয়ার্টারে টেনে নিয়েছে ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যদের।









