শিরোপা মঞ্চে ভালোই আধিপত্য দেখাচ্ছে স্পেন। বলের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রথমার্ধে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল তারা। তবে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দারুণ পারফর্ম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল স্প্যানিশদের সামনে। শেষ অবধি গোলশূণ্য সমতায় শেষ হয়েছে ফাইনালের প্রথমার্ধ।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে স্পেনের দখলে ছিল ৬৪ শতাংশ বল, আর্জেন্টিনার ৩৬ শতাংশ। স্প্যানিশরা শট নিয়েছে ৩টি যার মধ্যে ১টি ছিল অন টার্গেটে। আর আলবিসেলেস্তেরা কোনো শটই নিতে পারেনি।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ডি-বক্সে ডান পাশ বল পান লামিন ইয়ামাল। গোলমুখে শটও নেন, তবে বাম পাশে ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ফিরতি বল পেয়ে ফের আক্রমণে গেলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ প্রতিহত করেন তা।
স্পেনের আক্রমণ ঠেকানোর পর সেখান থেকেই পাল্টা আক্রমণে ওঠার সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। তবে থ্রু বল লিওনেল মেসি রিসিভ করার আগেই ডি-বক্স ছেড়ে এগিয়ে এসে বিপদমুক্ত করেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। ফিরতি বল পায়ে নিতে পারলেন না জুলিয়ান আলভারেজ, আক্রমণের সুযোগ হারায় আর্জেন্টিনা।
১২ মিনিটে ফের আক্রমণে যায় স্পেন। বল ক্লিয়ার করতে কিছুটা নড়বড়ে ছিলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। শেষ পর্যন্ত কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত করেন তিনি। অ্যালেক্স বেনার কর্নার কিকে তেমন সুবিধা করতে পারেনি স্পেন।
ম্যাচের ১৬তম মিনিটে কিক অফের পর প্রথমবার বলের ছোঁয়া পেলেন লিওনেল মেসি। তবে সেটি তাকে রাখতে দিলেন না অ্যালেক্স বেনা। পেছন থেকে কনুই দিয়ে ধাক্কা দিয়ে মেসিকে ফেলে দেন তিনি। মাঝমাঠের কাছাকাছিতে ফ্রি কিক পায় আর্জেন্টিনা। রদ্রিগো ডে পলের উঁচু করে নেওয়া শট ডি বক্সে নাগাল পেলেন না নিকো গঞ্জালেস, সুযোগ হারায় আলবিসেলেস্তেরা।
১৭ মিনিটের উঁচু করে আসা বল ধরে ডান পাশ দিয়ে আর্জেন্টিনা ডি-বক্সে ঢুকেন ইয়ামাল। তবে তার দুর্বল শট সহজেই ঠেকালেন মার্টিনেজ। ২৪ মিনিটে মার্ক কুকুরেয়ার শট থেকে কর্নার পায় স্পেন। তবে অ্যালেক্স বেনার কর্নার কিকে বিপদ হতে দেননি মার্টিনেজ। বল সরাসরি নিজের গ্লাভসে নেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক।
৩২ মিনিটে দারুণ বোঝাপড়ায় বাম পাশ দিয়ে আক্রমণে যায় স্পেন। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রসটা ভালো দিতে পারেননি অ্যালেক্স বেনা। সহজেই ঠেকিয়ে দেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।
৩৫ মিনিটে আক্রমণে উঠেছিল স্পেন। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের ডানদিকের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে ভালো সুযোগ তৈরি করে তারা। ফ্যাবিয়ান রুইজ বল বাড়িয়ে কুকারেয়াকে দেন। এই ফুলব্যাক অবশ্য খুব একটা ভালো ক্রস করতে পারেননি, একইসঙ্গে অফসাইডের ফাঁদে পড়েন তিনি।
৩৯ মিনিটের ডি-বক্সের বাইরে বল পেয়ে দূর পাল্লার শট নেন মিকেল ওয়েরজাবাল। তবে বল সরাসরি এমিলিয়ানোর গ্লাভসেই জমা পড়ে। ৪১ মিনিটে আক্রমণে উঠে আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষটা ভালো হলো না। একটি পাস ধরতে ভুল করার পর বল রিকভার করতে গিয়ে পেছন থেকে মিকেল ওয়েরজাবালকে ফাউল করেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। তাতে হলুদ কার্ড দেখতে হয় তাকে।
৪৪ মিনিটে পেশিতে টান পান লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। চোটের কারণে মাঠ ছেড়ে যেতে হয় তাকে। তার জায়গায় নামেন নিকোলাস ওটামেন্ডি। শেষ অবধি প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।







