অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার বিচ্ছেদ হয়েছে অনেকদিন হলো। ডিভোর্স হলেও আগের সংসারের সেই ক্ষত শুকায়নি তার মন থেকে। বিচ্ছেদের বছর খানেক পর শবনম ফারিয়া অভিযোগ করেন, তার সাবেক স্বামী হারুন অর রশিদ অপুর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। সংসার টেকানোর জন্য সব সহ্য করেছিলেন বলেই চুপ থেকেছেন!
সম্প্রতি পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এলমা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় ফারিয়া নিজের নির্যাতিত হওয়ার ঘটনাকে সামনে তুলে আনেন।
স্বামীর নির্যাতনে হাত ভাঙার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘মৃত মেয়েটার (এলমা) ছবি দেখার পর বারবার আমি দেড়-দুই বছর পেছনে ফিরে যাচ্ছিলাম। মনে পড়ছিল, কীভাবে ভাঙা হাত নিয়ে আমি “দেবী” সিনেমার প্রমোশন করেছি। যখন কেউ জানতে চেয়েছে কী হয়েছে, বলেছিলাম সিঁড়ি থেকে পড়ে ব্যথা পেয়েছি! কীভাবে ব্যথা পেয়েছি, সেটা সবাইকে বলার সাহস আমার ছিল না। কারণ আমি জানতাম, এই মানুষটার সঙ্গেই আমাকে থাকতে হবে, নাইলে মানুষ কী বলবে। আমার মা সমাজে মুখ দেখাবে কীভাবে। আমার দুই বোন যে স্বপ্ন নিয়ে এত আয়োজনের প্ল্যান করছে, তাদের কী জবাব দেব। কাবিনের তিন মাস না যেতেই এত কিছু! নিশ্চয়ই সমস্যা আমারই।’
ফারিয়ার এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন তার সাবেক স্বামী হারুন অর রশিদ। তিনি ফারিয়ার অভিযোগকে আমলে না নিয়ে পাল্টা অভিযোগ করেন।
বৃহস্পতিবার এক ফেসবুক পোস্টে অপু লিখেছেন, ‘প্রেম, বিয়ে কিংবা একটা সম্পর্ক এর মাঝে হাজারটা চড়াই-উৎরাই থাকে। আবেগ, রাগ, হাসি কান্না , সুখ দুঃখ মিলিয়েই একেকটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমার বিয়ের সম্পর্কটি টেকেনি, এটা নিয়ে আমার বিপরীতের মানুষ অনেক বয়ান, স্ট্যাটাস, মতবাদ দিলেও এতদিন পর্যন্ত আমি কিছুই বলিনি, হয়তো আর বলবোও না। ভেবেছি বোবার শত্রু নাই। কিন্তু যা দেখছি অনেকদিন ধরেই, চুপ থেকে সম্মান দিয়ে যাওয়াও আজকাল অনেকে সুযোগ নিয়ে নেয়। কিছু কারণ একান্তই নিজস্ব, কিছু কারণ সামাজিক, আর্থিক বা বাইরের। মেজাজ গরম, ভালোমন্দ, উগ্রতা একটা সম্পর্কে দুজনের মধ্যেই থাকে। কষ্টের মুহূর্তও দুইদিকেই থাকে। খারাপ সময়ে কেউ একলা আসমানে তাকায় থাকে না, দুজনই তাকায়।’
তিনি বলেন, ‘অভিযোগ দুই দিকেই থাকে, কেউই সন্ন্যাসী লেভেল এ থাকিনা আমরা। দিনের পর দিন কারো আসমান সমান অভিযোগ থাকলে, আরেকদিকে পাহাড় সমান থাকারই কথা। অভিযোগের পুঁজি করে নিজেকে সাধু সাজিয়ে ভিকটিম হিসেবে প্রকাশ করা অনেকের অভ্যাস হতে পারে- তবে এই পথে এখনো যেতে পারিনি। পাশে থেকেও শ্রদ্ধা রাখা যায়, দূরে থেকেও যায়। নিজেকে ভিকটিম এর মতো উপস্থাপন করে বিভ্রান্তিমূলক মতবাদ- আসলেই দুঃখজনক।’
ফারিয়ার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে সাবেক স্বামী আরো বলেন, ‘হয়তো বিপরীতের মানুষটি অশান্তিতে আছে দেখেই এমন মনোভাব পোষণ করছে। নিজে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে নিজেই অশান্তিতে থাকলে তখন অনেকেই চেষ্টা করেন বাকি মানুষটাকেও ছোট প্রমাণ করতে। প্রায় সময়ই আমরা অশান্তিতে থাকলে নিজেদের বেসামাল করে কথা বলেই ফেলি। অন্য কেউ ভালো থাকলে আবার টেনে নামানোর চেষ্টাও হয়তো করেন কেউ। আল্লাহ সবাইকে বিভিন্ন রকম বিপদ, কষ্ট, প্যারা, কেইস, অশান্তি এবং অসংলগ্ন কথা থেকে মুক্ত থাকার তৌফিক দান করুন, আমীন।’
২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ফারিয়া ও অপুর বিচ্ছেদ হয়। বনিবনা না হওয়ায় দুজনে মিলে তারা এ সিদ্ধান্ত নেন বলে সেসময় স্পষ্ট জানান। এরআগে ২০১৮ সালে অপুর সঙ্গে ফারিয়ার আংটিবদল হয়, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হয় বিয়ে।








