শনিবার সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষার্থী হত্যা ও ধর্ষণের ‘খবর’ ছড়ানোকে দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষকরা। কোনো প্রকার গুজব ও সহিংসতার ফাঁদে কাউকে পা না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। আরও অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়ে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগের দাবি তাদের।
একই সঙ্গে এই পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকে সংবাদ পরিবেশনে বাধা দিয়ে গুজব ছড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করা এবং সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করারও তীব্র সমালোচনা করেন শিক্ষকরা।
গতকাল রাজধানীর জিগাতলায় শিক্ষার্থী ও অজ্ঞাত যুবকদের সংঘর্ষ এবং আজ রোববার সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষক’ ব্যানারে সরব থাকা শিক্ষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দৃষ্টান্তধর্মী নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন দমনে শনিবার ঢাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। সরকার হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এমনকি আহত শিক্ষার্থীদের কোন কোন হাসপাতাল চিকিৎসা সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এটা সত্য হলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অমানবিক।
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন: এতো দিন এই আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের সবাই যে দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়ে আসছিলেন, গতকালের আক্রমণের মাধ্যমে সরকার নিজেই প্রমাণ করেছে এগুলো তারা মন থেকে করেনি। এটা সরকারের জন্য আত্মঘাতী।
শিক্ষার্থী নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন: আমাদের দেশে এই মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের ওপর ধারাবাহিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। শিক্ষার্থীদের ওপর যখন নিপীড়নের ঘটনা ঘটলে আমরা নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষকরা প্রতিবাদ করি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলি।
গতকাল গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে তৃতীয় কোন পক্ষ শিক্ষার্থীদের নিপীড়নের মুখে ঠেলে দিয়েছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক বলেন: আমরা নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা নিপীড়িত হলে আমরা সেটার প্রতিবাদ করবো। কোন অশুভ শক্তি বা তৃতীয় পক্ষ, নাকি নিজেদের পক্ষ এই নিপীড়ন চালিয়েছে সেটা সরকারকেই খুঁজে বের করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়:
শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন, অবিলম্বে নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ।
গ্রেফতার ও আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার।
চিহ্নিত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দেশে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা।
নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষকদের মধ্যে বক্তরা ছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান প্রমুখ।








