রাজধানীতে নিখোঁজ চিকিৎসক ইকবাল মাহমুদকে উদ্ধারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সাথে ইকবাল মাহমুদের সন্ধান ও উদ্ধারে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে গণ্য হবে না, তা জানতে রুল জারি করেছেন আদালত। চিকিৎসককে উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে তার পরিবার।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ইকবাল মাহমুদকে সায়েন্স ল্যাবের মোড় থেকে মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে জানায় তার পরিবার।
এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন ইকবালের বাবা এ কে এম নুরুল আলম। তারপরও কোনো সন্ধান না পেয়ে ইকবাল মাহমুদকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনে তাঁর বাবা রিটটি করেন।
শুনানি শেষে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ ফারুকের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশ দেন।
ডা. ইকবাল মাহমুদ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাসের পর ২৮তম বিসিএস এ উত্তীর্ণ হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে যোগদান করেন। ইকবাল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক। তিনি ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবেদনবিদ্যায় (অ্যানেসথেশিয়া) দুই মাসের প্রশিক্ষণ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন গত ১০ অক্টোবর।
এরপর লক্ষ্মীপুরে যান। সেখানে ছুটি কাটিয়ে সেদিন ঢাকায় ফিরেই অপহৃত হন। পরে ওই এলাকা থেকে পরিবার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। ফুটেজে দেখা যায়, ভোররাত ৩টা ১০ মিনিটে রয়েল কোচ নামে একটি বাস সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড়ে ধানমণ্ডি ১ নম্বর রোডের কাছে এসে থামে।
ইকবাল মাহমুদ ওই বাস থেকে নেমে দাঁড়ান। সঙ্গে সঙ্গে সাত-আটজন তাকে ঘিরে ধরেন এবং খুব দ্রুত মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে চলে যান। মাইক্রোবাসের পেছনে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানও ছিল। তার পেছনে একটি মোটরসাইকেলে ছিলেন আরও দু’জন।
তাকে উদ্ধারে করা মামলায় দীর্ঘদিনেও অগ্রগতি না হওয়ায় একাধিকবার সংবাদ সম্মেলনও করেন ডা. ইকবালের বাবা এ কে এম নুরুল আলম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, অপহরণের এক দিন পর অপরিচিত একটি নম্বর থেকে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করেন। ওই ব্যক্তি ইকবালকে ফিরে পেতে চাইলে পরের ফোনটি ধরতে বলেন। কিছুক্ষণ পরই ইকবালের ফোন থেকে কল আসে।
নুরুল আলম ফোনটি ধরলেও অপর প্রান্ত থেকে পরিষ্কার কিছু শোনা যাচ্ছিল না। কয়েক সেকেন্ড পর লাইন কেটে যায়। তারপর প্রথম যে নম্বরটি থেকে ফোন এসেছিল, সেটি থেকে আবার কল আসে এবং বিকাশের চারটি নম্বর দিয়ে তাতে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ পাঠাতে বলেন। তিনি বিকাশে টাকা পাঠিয়েছেন, কিন্তু ছেলেকে ফিরে পাননি।
রুলে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ ১০ জনকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।








