বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ সরকার যতই না, না বলুক; না কে হ্যাঁ করতে তারা আদাজল খেয়ে লেগেছে। এই দেশটি ১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শত্রু পক্ষ পাকিস্তানের মিত্র ছিল। তারা বাঙালি নিধনে সপ্তম নৌবহর পাঠাতে চেয়েছিল। তার পাল্টা জবাবে রাশিয়া কর্তৃক বাঙালি রক্ষায় অষ্টম নৌবহর পাঠানোর ঘোষণায় তারা পিছু হটে।
শুধু তাই নয় একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে যখন বাঙালিরা বিজয়ের কাছাকাছি তখনও পাকিস্তানকে রক্ষার তারা আশা ত্যাগ করেনি। তখন নতুন ফাঁদ পেতে জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপন করে যে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান দুটো ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র সুতরাং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বিরোধ মেটানো যেতে পারে। সেদিনের আমেরিকার প্রস্তাবে রাশিয়া ভেটো না দিলে এত রক্তক্ষয়ের পরও বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হতে পারতোনা। রাশিয়া বলল, এখন আর আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে বিরোধ নিস্পত্তির পরিস্থিতি নেই। বাঙালিরা যুদ্ধ করেই তাদের স্বাধীনতা অর্জন করে নেবে। রাজাকার, আলবদর ও পাকিস্তানের মিত্র আমেরিকা আমাদের জন্মলগ্নের শত্রু রাষ্ট্র।
এই দেশের সঙ্গে যারা মিত্রতা করতে যায় তাদেরই সর্বনাশ হয়। সর্বনাশ হয়েছে খোদ রাশিয়ার। বিশ্বের নিপীড়িত রাষ্ট্র ও মানুষের বন্ধু সমাজতান্ত্রিক রাশিয়াকে গুপ্তচর ও সেদেশীয় দালাল লাগিয়ে তছনছ করে দিয়েছে। পাকিস্তান, অাফগানিস্তান ও একাংশের মিত্র হয়ে ওঠা ইরাক আজ ধ্বংসস্তুপে পরিণত। ইসরাইলকে প্রতিষ্ঠিত করতে ফিলিস্তিনের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নিয়েছে।
শত্রুকে শত্রু ভেবে শত্রুর মতো করে রাখলে তেমন ক্ষতি হয়না। ক্ষতি হয় তাকে মিত্র ভেবে বসলে। কতিপয় অপরিপক্ক ব্লগারের ধর্ম ও নবী রসুল সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করে ব্লগিং করা যেন আমেরিকার ইন্ধনেরই ফল। তারা যে ব্লগারদের মিত্র বেশে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে এটা ব্লগারগণ বুঝছেন না। ব্লগার হত্যার বিরুদ্ধে আমেরিকার কত বিবৃতি, তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দেয়া, এদেশের সরকারকে তাদের নিরাপত্তা দিতে বলা ইত্যাদি কত কী। একটা উগ্র লড়াকু ষাঁড়কে একটা সুঁই দিয়ে খোঁচা দিলে যে শিঙ্গের গুঁতো খেতে হবে সেটা খুবই বাস্তব। ধর্মান্ধ (ধর্মজ্ঞানহীন মেকি) জঙ্গীরা হচ্ছে উগ্র ষাঁড়ের মতো। যেখানে প্রয়োজন ষাঁড়টাকে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমূলে বিনাশ করা।
সেটি না করে আমেরিকার ইন্ধনে ব্লগাররা সেটাকে খুঁচিয়ে ক্ষিপ্ত করে নিজেদেরই প্রাণহানীর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে চলেছে। যত বেশি ব্লগার হত্যা হবে ততবেশী বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে সহজ হবে। নাস্তিকতা ও আস্তিকতার দর্শন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই এমন অপরিপক্ক পোলাপান নাস্তিক্যবাদী দার্শনিক বনে যাচ্ছে। মৃত্যুর আগে এইসব ব্লগারদের কেউ চিনেনা, তাদের পরিচিতি ঘটে খুন হওয়ার পরে। নাস্তিকতা ইস্যুতে আইএস অস্তিত্ব প্রমাণ ত্বরান্বিত হচ্ছে না ভেবেই হয়ত সমকামিতা ইস্যুটিকে নিয়ে এলো ধর্মজ্ঞানহীন ধর্মান্ধ ষাঁড়দের অধিকতর ক্ষেপিয়ে তোলার জন্য।
জুলহাস মান্নানের তনয়ের সাথে সমকামিতার সম্পর্ক ছিল কি ছিল না. আমি সেটাকে আলোচ্য বিষয় হিসেবে নিতে রাজি নই। কে এই জুলহাস মান্নান কার মাধ্যমে তার এই উত্থান? তিনি ড্যান মজিনার প্রটোকল অফিসার ছিলেন। বাঙালির একটা আলাদা সংস্কৃতি আছে। প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসার সম্পর্ক ও সামাজিকতা বাঙালির বাঙালির মতোই, সেটাকে আমেরিকা, লন্ডন কিংবা ইসরাইলের মতো মনে করলে ভুল হবে। বাংলাদেশের আইনে সমকামিতা গ্রহণযোগ্য নয়। এদেশের মানুষও এটাকে নিন্দনীয় সম্পর্ক হিসেবেই দেখে। জুলহাস মান্নান কেনো সমকামিতার অধিকার প্রতিষ্ঠায় রূপবান নামক একটি পত্রিকা বের করলেন? সেটা কার অনুপ্রেরণায় ও অর্থায়নে। তিনি যদি নিজে সমকামী হয়ে থাকেন সেটাকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবেই রাখতেন। এটার পক্ষে এডভোকেসি করতে পত্রিকা বের করলেন কেন? সেটাও নিশ্চয়ই ওই ড্যান মজিনা আর আমেরিকাকেই খুশি করতে হয়তো? অথবা ড্যান মজিনাই তাকে দিয়ে রূপবান পত্রিকাটি বের করিয়েছে। পত্রিকা বের করলে ধর্মান্ধ ষাঁড়দের নজরে পড়বে তাই। এসব হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও তার সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতেই আমেরিকা এই দূরভিসন্ধিমূলক অপকর্ম করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আর্থ সামাজিক দুর্নীতি, বৈষম্য, অনিয়মসহ কতধরনের সমস্যা চলমান রয়েছে। মুক্তমনারা সেসব বিষয় স্পর্শ না করে মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে কটূক্তি, ধর্মের বিরোধিতা, সমকামিতার অধিকার প্রতিষ্ঠা; কেন এইসব? এগুলো কি স্বতঃস্ফূর্ত মুক্তমনার কর্মকাণ্ড না উদ্দেশ্য প্রণোদিত। পেছন হতে কারও কলকাঠি নাড়ার ফল। খুবই ভাববার বিষয়।
ড্যান মজিনার পরে এল মার্শা বার্নিকাট। সব শেয়ালের এক রা। উপযাচক হয়ে বলছে, বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমন করতে সরকার একা পারবেনা। আমরাও সহযোগিতার সঙ্গী হতে চাই। বাংলাদেশে আইএস প্রতিষ্ঠার জন্য তারা আদাজল খেয়ে লেগেছে। তিরিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ নারীর জীবন ও সম্ভ্রম হরণকারী পাকিস্তানের পক্ষ নেয়া রাজাকারদের ফাঁসির আদেশ বাতিলের জন্য সুপারিশ করে খুনীদের পক্ষ নেয়। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আমেরিকায় আশ্রয় দেয়। এক পরিবারের আটজন হত্যা হয় যেদেশে সেদেশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে নাক গলায়! এখন আবার ব্লগাররা বিবৃতি দিচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার যে বলছে বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই। এতে বুঝি সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে। এই বিবৃতির পেছনে আমেরিকার ইন্ধন রয়েছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। টাঙ্গাইলে নিখিল দর্জিকে হত্যা করা হলো। এখন কথা উঠছে সে নাকি মহানবী (সাঃ) কে কটূক্তির দায়ে গ্রেফতার হয়েছিল। সকল হত্যার পেছনে কেন এইসব ক্লু। ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে, মহানবী সম্পর্কে বাজে কথা বলে ধর্মান্ধ ষাঁড়দের ক্ষেপানো ছাড়া সমাজ, দেশ ও মানুষের কী উপকার করছে তারা। এইসব হত্যাকাণ্ডের পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী আমেরিকা। বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব প্রমাণ না করা পর্যন্ত তাদের ষড়যন্ত্র থামবেনা। আইএস দমনের নামে তারা সিরিয়ার মতো বাংলাদেশকে একটি বিধ্বস্ত দেশে পরিণত করতে চায়। নষ্ট করতে চায় উপমহাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা। সরকারকে এ ব্যাপারে খুবই কৌশলী ও সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে।
ব্লগারের সংজ্ঞা কি। ব্লগারের আয়ের উৎস কী। জেলায় জেলায় ব্লগারদের নামের তালিকা করতে হবে। তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্লগারদের সাথে নিয়মিত মতবিনিময়ের আয়োজন করতে হবে। ব্লগাররা আলোচনার আলোতে আসে মৃত্যুর পরে তাদের জীবদ্দশায় আলোচনার আলোতে আনতে হবে। এদেশীয় ব্লগাররা দোষ করলে তাদের বিচার করবে এদেশীয় সরকার। বাংলাদেশে আইএসের নামে মার্কিন অনুপ্রবেশ ঘটলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাবে। দলমত নির্বিশেষে সকলকে সর্বোচ্চ চেষ্টায় এই ভয়াবহ সর্বনাশের পথ বন্ধ করতে হবে। তায়েফের ময়দানে মহানবীকে কাফেররা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে রক্তাক্ত করেছিল। তবু নবী কাফেরদের উপর পাল্টা আঘাতের অনুমতি দেননি। যেসব ধর্মান্ধ ষাঁড়েরা নবীর সমালোচনাতে হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে তারা যে নবীর অনুসারী নয়, এই বোধকে সর্বত্র জাগ্রত করতে হবে। আমরা ষাঁড় খোঁচানো চাই না , ষাঁড় দমন ও নিধন চাই।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)










