লিগ বা টুর্নামেন্টে একজন ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ গড় কত হতে পারে? ১০০, ১৫০, ২০০। যদি দেখেন ৪৭৭! চোখ কপালেই ওঠার কথা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নাসির হোসেন গড়েছেন এই কীর্তি। সাত ম্যাচ খেলে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের এই অধিনায়ক করেছেন ৪৭৭ রান। এর ছয় ইনিংসেই অপরাজিত থাকায় এ ডানহাতি ব্যাটসম্যানের গড় মোট রানের সমান। নামের পাশে ৪৭৭ গড় দেখে অন্যদের মতো নাসির নিজেও অবাক হন, অবিশ্বাস্য মনে হয় তার কাছেও।
‘একজন ব্যাটসম্যানের এভারেজ যদি ৪৭৭ থাকে সেটা তো অনেক ভালো লাগার বিষয়। এটা তো আমারই বিশ্বাস হয় না মাঝেমধ্যে। খুব ভালো লাগে এমন জিনিস দেখলে। আমি অনেক সন্তুষ্ট। ওভারঅল প্রিমিয়ার লিগ ভাল খেলছি।’
ব্যাটে-বলে দারুণ যাচ্ছে অলরাউন্ডার নাসিরের সময়। সাত ম্যাচে খেলে পেয়েছেন দুটি সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটি। চার ম্যাচে বল করে নিয়েছেন ৯ উইকেট। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে সন্তুষ্টির কথা বারবার জানিয়েছেন নাসির।
সবগুলো ম্যাচে বল করলে হয়তো উইকেট আরও বেশি পেতেন। মাত্র চার ম্যাচে বল হাতে নিয়ে ১০ ওভার একবারও করেননি। দলে থাকা আরেক অফস্পিনার মেহেদী হাসানকে সুযোগ করে দিতেই পার্টটাইম স্পিনার হিসেবে বল করেছেন নাসির। যতটুকু বল করেছেন তাতেই ধুঁকেছে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যান। বোলিং নিয়ে নাসিরের আক্ষেপ নেই। সতীর্থের কথা ভেবে নিজেকে আড়াল রেখেছেন, ‘তিন ম্যাচে বোলিং করে ৯ উইকেট পেয়েছি। বোলিং নিয়েও আমি হ্যাপি। আমাদের দলে মেহেদী সাত-আট নম্বরে ব্যাট করে। অনেক ম্যাচে ব্যাট পায় না। সে যদি বোলিংও না করে সেক্ষেত্রে জিনিসটা কেমন দেখায়। সে কারণে সেক্রিফাইস করে আমি ওকে ১০ ওভার বোলিং করাই। এটাই আরকি। যখন দরকার পড়ে তখন আমি করি।’
সোমবার বিকেএসপিতে প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচে গাজী খেলবে প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে। এ ম্যাচটি জিতলেই শিরোপা পাবে নাসিরের দল। আত্মবিশ্বাসী নাসির অঘোষিত ফাইনাল নিয়ে বললেন, ‘আমরা অনেক আত্মবিশ্বাসী। বড় কথা হচ্ছে, আমরা টিম হিসেবে অনেক ভাল খেলছি। লিগের শেষ ম্যাচ, এটি জিতলে আমরা চ্যাম্পিয়ন হব। এই ম্যাচে জেতার জন্য আমাদের যা যা করা দরকার আমরা তাই করবো।’
লংগার ভার্সন বিসিএল, ইমার্জিং কাপ ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টানা তিনটি আসরে ব্যাটে-বলে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন নাসির হোসেন। জাতীয় দলে ব্রাত্য এই ক্রিকেটার আছেন সেরা ফর্মে। কাটাচ্ছেন ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময়। নাসির অবশ্য তা মনে করেন না।
‘এর আগে রান করিনি এমন না। আগেও রান করেছি। সেরা ফর্ম? সাতটা ম্যাচ দিয়ে তো বলতে পারবেন না। এক বছর টানা রান করলে মনে হবে ভাল জায়গায় আছেন। সাতটা ম্যাচ দিয়ে আসলে বিবেচনা করা যায় না। আমার ব্যাটিং ভালো হলো কিনা সেটা প্রতিপক্ষ বোলার বলতে পারবে। এবার লিগের কিছু উইকেট খুব ভালো ছিল। রান করার পেছনে এটাও একটা কারণ হতে পারে।’









