২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ভুল বা ঠিক কী করেছে, তা খোলাসা না করলেও এবার কোনোভাবেই নির্বাচনের বাইরে থাকতে রাজি নয় বিএনপি। চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং আগামী নির্বাচনের জন্য সাধ্যমতো সবকিছু করতে চায় তারা।
বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি গঠন ও কঠোর আন্দোলনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতাদের ভারত সফর তারই অংশ।
বেশ কিছুদিন ধরে বিএনপি মহাসচিবকে দেশে দেখা যাচ্ছিলো না। পরে জানা যায়, তিনি চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে গেছেন। সঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও আছেন। কিন্তু, এখন জানা যাচ্ছে, তিনি আছেন লন্ডনে।
বিএনপির একটি সূত্র থেকে জানা যায়, লন্ডনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করেছেন মহাসচিব। পরবর্তী করণীয় ঠিক করতেই মূলত মহাসচিব লন্ডনে গেছেন। যদিও বিষয়টি একেবারেই গোপন রাখা হয়।
অপরদিকে বিবিসিসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল এখন ভারতে। আর সেই দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সঙ্গে রয়েছেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
বিএনপির একাধিক নেতা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নসহ আরও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে দিল্লি গেছেন বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, বিএনপি নেতারা সেখানে দেশটির প্রভাবশালী কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা থিংক ট্যাংকে সাবেক কূটনীতিক, অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আসন্ন নির্বাচনের আগে ভারতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের মতামত জানতে এবং নিজেদের মত জানাতেই তারা এই সফরে গেছেন।
দ্য হিন্দু পত্রিকায় লেখা হয়েছে, দিল্লিতে বিএনপি নেতারা বাংলাদেশের একটি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের সহায়তার জন্য নরেন্দ্র মোদী সরকারের সাহায্য চেয়েছেন।
প্রতিনিধিদলের নেতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি লিখেছে, বাংলাদেশের মানুষ আশা করে, বৃহত্তর প্রতিবেশী ভারত যেন বাংলাদেশে একটি গঠনমূলক ভূমিকা রাখে এবং নির্বাচনে একটি মাত্র দলকে সমর্থন না করে।
মাসখানেক আগে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছিলেন, ভারতের কোনো প্রতিষ্ঠান বা দল যদি আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানায় আমরা অবশ্যই যাবো। ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশটির ভূমিকা অনস্বীকার্য। কাজেই সম্পর্ক ভালো থাকতেই পারে।
এসব উদ্যোগের পাশাপাশি নতুন করে আন্দোলনের পরিকল্পনাও করছে বিএনপি।
দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ বলেছেন, ধৈর্য্য ধরুন। এমন কঠোর কর্মসূচি আসছে যে, আওয়ামী লীগের নিশ্চিত পরাজয় হবে। এবারের আন্দোলন কোনো ভদ্র মানুষের মতো শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হবে না।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ভোটারবিহীন বর্তমান অবৈধ-স্বৈরাচারী সরকারের ‘শেষ বাজেট’। আগামী দিনে আমরা যে বাজেটটি প্রত্যাশা করি সেই বাজেটে বর্তমান সরকারের আর কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলে আমার মনে হয় না। জনগণ তাদেরকে আর সেই সুযোগ ও সেই ক্ষমতা দেবে না।







