হবিগঞ্জ জেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কথিত পুশ-ইনের প্রচেষ্টা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে, জেলার ১০৩ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং এ কাজে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়ে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইনের প্রচেষ্টা বেড়ে যাওয়ায় ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন ১৬টি বিওপি থেকে ২৪ ঘণ্টা টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত উঠান বৈঠক, মাইকিং এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। কৃষক, চা-শ্রমিক, শ্রমজীবী মানুষ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্তে নজরদারি এবং তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতা করছেন। বিজিবির দাবি, এ সম্মিলিত উদ্যোগের ফলে হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পুশ-ইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটেনি।
বিজিবি আরও জানায়, গত ২৭ ও ২৮ জুন রাতে ও ভোরে মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার তেলিয়াপাড়া এবং গুইবিল সীমান্ত এলাকায় রাতের অন্ধকারে বিএসএফের পক্ষ থেকে কথিত একাধিক পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবির টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তের শূন্যরেখায় সেগুলো প্রতিহত করে বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মো. তানজিলুর রহমান বলেন, হবিগঞ্জ সীমান্তে আমরা একা নই। বিজিবি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, গ্রাম পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, স্থানীয় কৃষক, চা-শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ সবাই মিলে একটি শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তুলেছি। দেশের সীমান্ত রক্ষায় সবার অংশগ্রহণই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিটি ইঞ্চি সীমান্ত পাহারা দিচ্ছি। যেকোনো ধরনের পুশ-ইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।







