ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ক্লাব ছাড়াটা আসলে রিয়াল মাদ্রিদে একটি যুগের শেষ চিহ্নিত করেছে। পর্তুগিজ তারকা এই গ্রীষ্মেই জুভেন্টাসে যোগ দিয়েছেন। ফলে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা থেকে লিওনেল মেসিকে সই না করালেও প্রায় একই রকম একটি বিস্ময় নিয়ে নতুন বছর শুরু করতে যাচ্ছে। ২০০০-০১ মৌসুমের পর এই প্রথমবার দলে কোনো ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলার ছাড়া মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছে মাদ্রিদ জায়ান্টরা।
যেখানে ক্লাবটি সবসময়ই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের কিনতে চাইতো, সেখানে এবার ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেনটিনো পেরেজ তার প্রথম বানানো বিখ্যাত গ্যালাটিকো কালার থেকে রিয়ালকে দূরে সরিয়েছেন।
২০০০ প্রথম নির্বাচিত হয়ে পেরেজ কথা দিয়েছিলেন বার্সেলোনা থেকে লুইস ফিগোকে কিনবেন। পরে রেকর্ড ৩৭ মিলিয়ন ইউরোতে তাকে দলে এনে কথা রেখেছিলেন। সেই যে শুরু, তারপর থেকে এই পর্যন্ত দলে কোনো ব্যালন ডি’অর জয়ী খেলোয়াড় ছাড়া রিয়ালের একটি মৌসুমও যায়নি।
ফিগোকে দলে নেয়ার একই বছর জিনেদিন জিদানকে দলে নেয় রিয়াল। ১৯৯৮ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ফরাসি কিংবদন্তি। এরপর মাদ্রিদ জায়ান্টের দলে যোগ দেন ২০০২ সালে ব্যালন ডি’অর জেতা ব্রাজিলের রোনাল্ডো। রিয়ালে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ব্যালন ডি’অর জেতেন সেলেসাও সুপারস্টার।
পরের কয়েকটি মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ সামান্য একটু ভিন্ন পথ গ্রহণ করে। রোনাল্ডোর পর ২০০৪ সালে দলে আনা হয় ব্যালন ডি’অর বিজয়ী ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েনকে। তার পারফরম্যান্সে ভর করে ২০০১ সালে লিগ কাপ, এফএ কাপ এবং উয়েফা কাপ জেতে লিভারপুল।
২০০৬ সালে পদত্যাগ করেন পেরেজ। তবে জুভেন্টাসের রেলিগেশনের সুযোগ নিয়ে তখন তুরিন থেকে একযোগে রিয়াল দলে আনে কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলো, মিডফিল্ডার এমারসন ও ডিফেন্ডার ফ্যাবিও কানাভারোকে। ইতালিকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে সে বছরই ব্যালন ডি’অর জেতেন কানাভারো।
রিয়ালের পরিচালনা বোর্ডের হটসিটে আবার ফিরে আসেন পেরেজ। এসেই ট্রান্সফার ফি’র দুটি রেকর্ড ভাঙেন তিনি। প্রথমে আনেন ব্যালন ডি’অর জয়ী ব্রাজিলের কাকাকে। যিনি ২০০৭ সালে ব্যালন ডি’অর জেতেন। এরপর আসেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। যিনি পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। ২০০৮ সাল থেকে প্রতিটি ব্যালন ডি’অর ভাগাভাগি করে নিয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসির সঙ্গে।
২০০০ সাল থেকে তাই কখনোই ব্যালন ডি’অর জয়ী খেলোয়াড় শূন্য হয়নি রিয়াল। কিন্তু রোনালদো চলে যাওয়ায় এবার ব্যালন ডি’অর ছাড়া গ্যালাকটিকোরা। রিয়ালের এই শূন্যতা অবশ্য আসছে ডিসেম্বরেই শেষ হতে পারে। কারণ এবারের ব্যালন ডি’অর জেতার দৌড়ে আছেন বিশ্বকাপজয়ী ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারান ও বিশ্বকাপ রানারআপ লুকা মদ্রিচ।
রিয়াল মাদ্রিদে ব্যালন ডি’অরের ১৮ বছর
২০০০-০১: লুইস ফিগো
২০০১-০২: লুইস ফিগো, জিনেদিন জিদান, রোনাল্ডো
২০০২-০৩: লুইস ফিগো, জিনেদিন জিদান, রোনাল্ডো
২০০৩-০৪: লুইস ফিগো, জিনেদিন জিদান, রোনাল্ডো
২০০৪-০৫: জিনেদিন জিদান, রোনাল্ডো, মাইকেল ওয়েন।)
২০০৫-০৬: জিনেদিন জিদান, রোনাল্ডো
২০০৬-০৭: রোনাল্ডো, কানাভারো
২০০৭-০৮: কানাভারো
২০০৮-০৯: কানাভারো
২০০৯-১০: কাকা, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
২০১০-১১: কাকা, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
২০১১-১২: কাকা, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
২০১২-১৩: কাকা, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
২০১৩-১৪: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
২০১৪-১৫: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
২০১৫-১৬: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
২০১৬-১৭: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
২০১৭-১৮: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো







