পার্ট-টাইম চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুইডেনে নিয়ে যাওয়া চার বাংলাদেশি শ্রমিককে বছরের পর বছর অমানবিক পরিবেশে কাজ করানোর অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ব্যক্তিকে চার বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন সুইডেনের আত্তুন্ডা জেলা আদালত। একই মামলায় অভিযুক্ত এক নারীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, সুইডেনের ডান্ডেরিড ও ত্যাবি এলাকার দুটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ওই চার বাংলাদেশি শ্রমিককে তাদের চুক্তিতে উল্লেখিত পার্ট-টাইম কাজের তুলনায় অনেক বেশি সময় কাজ করানো হয়। সপ্তাহে ছয় দিন দীর্ঘ সময় কাজের পাশাপাশি তারা খুবই কম মজুরি পেতেন। এমনকি আদালতের তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের বেতনের একটি অংশ আবার নিয়োগকর্তাদের কাছে ফেরত দিতে বাধ্য করা হতো। আদালত এসব কর্মকাণ্ডকে ‘গুরুতর মানবশোষণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মামলার শুনানিকে বেতনের স্লিপ, অভিযুক্তদের সংরক্ষিত নোট এবং পুলিশের এক মাসের গোপন ক্যামেরা নজরদারির ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
ভুক্তভোগী শ্রমিকদের আইনজীবী নোয়েমি কাদাস বলেন, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ অমানবিক। তাদের অত্যন্ত দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় পারিশ্রমিক ছিল খুবই কম।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ইওহান্না স্টিগসন বলেন, কয়েক বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে এমন চারজন ব্যক্তিকে শোষণ করা হয়েছে, যারা সুইডিশ ভাষা জানতেন না এবং দেশটিতে নিজেদের অধিকার সম্পর্কেও অবগত ছিলেন না। তাদের এই দুর্বল অবস্থার সুযোগ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে শোষণ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন প্রধান অভিযুক্তের আইনজীবী লেও এসেমির। তার দাবি, মাত্র এক মাসের গোপন ক্যামেরার ফুটেজের ভিত্তিতে কয়েক বছরের কর্মপরিস্থিতি সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যথাযথ নয়। তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে, সেই আয়ের ওপর কর দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পেনশন তহবিলেও অর্থ জমা হয়েছে। তিনি জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
রায়ে প্রধান অভিযুক্তকে গুরুতর হিসাবরক্ষণ জালিয়াতির অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই আসামিকেই বিদেশি নাগরিক আইন লঙ্ঘনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের জন্য ব্যবসা পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
অন্যদিকে, একই মামলায় অভিযুক্ত এক নারীকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অপরাধে তার সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সুইডিশ সংবাদমাধ্যম এসভিটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণ ও শ্রম–সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি শ্রমিকদের দুর্বল অবস্থার সুযোগ নিয়ে শোষণের ঘটনাকে সুইডেনের আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।







