কাতারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানের’ বিমান নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের তথ্য জানিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে নিউইয়র্ক টাইমসের একাধিক সাংবাদিককে তলব করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।
রোববার (১২ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
গত শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তাদের অন্তত চার সাংবাদিককে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির সামনে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। তারা হলেন- এরিক শ্মিট, টাইলার পেজার, এরিক লিপটন এবং জুলিয়ান ই বার্নস।
এতে আগামী বুধবার ফেডারেল ফৌজদারি আইন লঙ্ঘনের একটি অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে সাংবাদিকদের গ্র্যান্ড জুরির সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে।
ম্যানহাটনের মার্কিন অ্যাটর্নি জে ক্লেটন এই সমন জারি করেছেন এবং ফেডারেল এজেন্টরা সরাসরি সাংবাদিকদের বাড়িতে গিয়ে এটি পৌঁছে দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।
এই সপ্তাহে তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন থেকে ট্রাম্পের ফিরতি ফ্লাইট নিয়ে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের সংবাদ পরিবেশনাটিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
কাতারের কাছ থেকে উপহার পাওয়া এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী দ্বারা আধুনিকায়ন করা নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে ট্রাম্প ইউরোপে গেলেও, পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই ফিরেছেন তিনি।
গত বুধবার ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ‘পুরোনো দিনের স্মৃতির খাতিরে’ আঙ্কারা থেকে ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের মাইল্ডেনহল ঘাঁটিতে যাওয়ার জন্য একটি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করবেন। আর সে সময় নতুন বিমানটিকে একই ঘাঁটিতে রাখা হবে; যাতে সেখানে দায়িত্বরত মার্কিন সেনাসদস্যরা বিমানটি ঘুরে দেখতে পারেন। কারণ, এটি সত্যিই চমৎকার।
তবে গত ৮ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমসের একজন সাংবাদিক বিমান পরিবর্তনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে ট্রাম্প তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন বলেন, “আপনারা জানেন, একজন প্রেসিডেন্টের জীবন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।” এরপর তিনি আরও যোগ করেন যে, তিনি “ইরানের হত্যা তালিকায় এক নম্বরে” রয়েছেন।
একইদিনে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি রিপোর্ট করে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ট্রাম্প তার নতুন প্রেসিডেন্সিয়াল জেটটি পুরোনোটির সাথে বদল করেছেন। জানা যায়, সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধেই এই পরিবর্তনটি করা হয়েছিল।
এর পরদিন, নিউইয়র্ক টাইমস একটি বিস্তারিত ফলো-আপ রিপোর্ট করে, যেখানে বলা হয় যে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে পুরোনো জেটটির মতো নিরাপত্তা সক্ষমতা ছিল না।
প্রতিবেদনটিতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন প্রাক্তন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয় যে, আঙ্কারা ফ্লাইটের আগে বিমানটি প্রয়োজনীয় আপগ্রেড করার জন্য যথেষ্ট সময় ছিল না। তবে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছেন যে এই আপগ্রেডগুলোর জন্য ১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর মতে, সমন জারির আগে এফবিআই-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটির সাথে যোগাযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই ব্যক্তি জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ান সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ স্থগিত রাখতে সংবাদ মাধ্যমটিকে অনুরোধ করেন। এফবিআই ওই কর্মকর্তাকে টাইমস-এর বেনামী সূত্রদের সম্পর্কেও তথ্য জানতে চান।
তবে, সংবাদপত্রটি প্রচলিত সাংবাদিকতার রীতি অনুযায়ী এই ধরনের তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এই সমনগুলো ট্রাম্প প্রশাসন এবং এর কার্যকলাপের ওপর প্রতিবেদন প্রকাশকারী মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিকতম সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়।

