জিততে হলে করতে হবে ৩৪২। বিশাল লক্ষ্য। এমন লক্ষ্য তাড়া করতে হলে শুরুটাও হওয়া চাই উড়ন্ত। সেই শুরুটা এনে দিতে পাকিস্তানি বোলারদের তাড়িয়ে বেড়ালেন জেসন রয়। হাঁকালেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। একবারও বুঝতে দিলেন না কিছু সময় আগেই ব্যক্তিজীবনে কী ঝড়টা পেরিয়ে এসেছেন ইংল্যান্ড ওপেনার!
সাত সপ্তাহ আগে পৃথিবীর মুখ দেখেছে রয়ের কন্যাসন্তান ইভারলি। ম্যাচের আগে শুক্রবার মধ্যরাতে ইভারলি হঠাতই অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে ছুটতে হয়েছে রয়কে। সারারাত হাসপাতালে কাটানোর পর সকালবেলা চিকিৎসকদের আশ্বাসবাণী শুনে ফিরেছেন টিম হোটেলে। মাত্র কয়েকঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে মাঠে নেমেই উড়িয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানকে।
৮৯ বলে রয়ের ১১৪ রানের ইনিংসটি তার ক্যারিয়ারে অষ্টম সেঞ্চুরি। স্লো-ওভার রেটের কারণে নিষেধাজ্ঞায় পড়া অধিনায়ক ইয়ন মরগান দলে না থাকায় শুরু থেকে কাউকে না কাউকে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হতই। রয় পালন করেছেন সেই দায়িত্বটা। তার বানানো রাস্তায় হেঁটে ৭১ রানে ম্যাচ জিতিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন বেন স্টোকস।
তাতে পাঁচ ম্যাচ সিরিজ ৩-০তে জিতে নিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়।
ম্যাচ জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে সেঞ্চুরির পেছনের কারণটা ব্যাখ্যা করলেন রয়। জানালেন সবচেয়ে কঠিনতম কিন্তু আবেগময় এক ম্যাচ খেলেছেন এদিন, ‘খুব কঠিন একটা সকাল গেছে। আমার এবং আমার পরিবারের সারাজীবন মনে থাকবে দিনটা। আমার ছোট মেয়েটা হঠাতই অসুস্থ হয়ে পড়ল। তাকে নিয়ে রাত দেড়টায় হাসপাতালে ছুটতে হল।’
‘সকাল ৮.৩০ মিনিট পর্যন্ত আমাকে হাসপাতালেই থাকতে হয়েছে। সেখান থেকে ফিরে অল্পকিছু সময় ঘুমানোর সময় পেয়েছি। মাঠে অল্প-কিছুক্ষণ অনুশীলন করেছি মাত্র। আমার জীবনে এটা সবচেয়ে আবেগময় শতক!’








