প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাজারে দেশের তৈরি পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে আগামী দুই বছরের জন্য এই খাতের পণ্য রপ্তানির ওপর উৎসে কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সমিতি বিজিএমইএ। একইসঙ্গে কর্পোরেট ট্যাক্স হার ২০ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করারও দাবি জানায় এ সংগঠন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে শনিবার দুপুরে বিজিএমইএ সভাকক্ষে পোশাক শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি ও আসন্ন বাজেট (২০১৭-১৮) শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন বিজিএমইএ’র সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান।
তিনি বলেন, পোশাক শিল্পকে বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। ইউরোর দরপতন, ব্রেক্সিট এবং গ্যাস সংকটসহ নানা কারণে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ১৮ শতাংশ। যদি কোন ভাবে দুই বছর নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখতে পারি, তবে আমরা ঘুরে দাড়াতে সক্ষম হব।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নতুন বাজারে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলেও আশানুরুপ ফল পাওয়া যায়নি। ব্যাপক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ব্যাংকিং জটিলতাসহ নানা কারণে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও রাশিয়াসহ নতুন বাজারে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে গত ১০ মাসে নতুন বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ২১ শতাংশ। যেখানে বিগত বছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ থেকে ২০ শতাংশ।
পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে সংকটময় উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি আগামী ২ বছরের জন্য এই খাতে সকল ধরনের সহযোগিতার দাবি করেন।
ট্যাক্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি পণ্য তৈরি করতে গেলে সুতা কেনা, ডায়িং, প্যাকেজিং, অ্যাক্সেসরিজসহ প্রত্যেক ধাপে কর দিতে হয়। সব স্তরে কর দিতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। তাই এ বিষয়ে আগামি বাজেটে সুদৃষ্টি কামনা করছি।
বাণিজ্যমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পোশাক শিল্পের উপর প্রত্যক্ষ করের বোঝা না চাপিয়ে পরোক্ষভাবে এ শিল্প সামগ্রিক অর্থনীতিতে কী অবদান রাখছে, তা বিবেচনা করা দরকার। কারণ এ শিল্পে জড়িয়ে রয়েছে ৪৪ লাখ শ্রমিকের ভাগ্য। তবে দুঃখজনক যে, গত চার বছরে প্রায় ১২ শ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বহু শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছে।
শিল্পে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে শিল্প ও বাণিজ্যের রাজস্ব নীতিসহ অন্যান্য নীতি ও কৌশলসমূহ অন্তত পাঁচ বছরের জন্য স্থিতিশীল রাখতে হবে।








