ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর ওপর হামলা তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণার পর থেকেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননজুড়ে ধারাবাহিক হামলা শুরু করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা লেবাননের পূর্বে বেকা উপত্যকা এবং দেশের অন্যান্য অংশে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
২২টি ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়ে এর প্রতিশোধ নিয়েছে এবং তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইসরায়েলি সৈন্য, ট্যাঙ্ক, ব্যারাক ও ভবন অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানিয়েছে হিজবুল্লাহ।
মে মাসের শুরুতে লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়েছিল, যদিও কিছু লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত এবং সামরিক বাহিনীকে তাদের ওপর একটি মারাত্মক আঘাত হানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৬০০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসীকে নির্মূল করা হয়েছে। কিন্তু এর জন্য এখন আমাদের হামলা বাড়াতে হবে এবং এর তীব্রতা বাড়াতে হবে।
ইসরায়েলের দুই কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী, বেজালেল স্মোট্রিচ এবং ইতামার বেন গভির, বৈরুতসহ সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন।
হিজবুল্লাহ বলেছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা সোমবার দক্ষিণ লেবানন এবং উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও রকেট ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও, দেশ দুটির কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে আরও আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনার সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলা মূলত দেশের দক্ষিণেই সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছেন এবং যেখান থেকে ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী ড্রোন ও রকেট ছোড়া হয়েছে।
গত সোমবার সন্ধ্যায় বেকা উপত্যকায় যে হামলা চালানো হয়েছিল সেটি পূর্ব লেবাননে যা সিরিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
ইসরায়েলের অভিযানের এই বৃদ্ধি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইরান সরকার জোর দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিতে আঞ্চলিক যুদ্ধের সকল রণাঙ্গনে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
ইসরায়েল সরকার হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই বন্ধ করার বিরোধিতা করে আসছে।
লেবাননের সাথে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে দশজন ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হয়েছে। একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি ভারী বোমাবর্ষণে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেক প্যারামেডিক এবং জরুরি পরিষেবা কর্মীও রয়েছেন।
ইসরায়েল দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকায় লেবাননের নাগরিকদের প্রায় প্রতিদিন তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ জারি করছে। যার ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দশ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর লেবানন বর্তমান লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করে।
এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।
লেবাননের সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের মতে এই জটিল কাজটি সম্পন্ন করার জন্য একটি যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য।








