রাশিয়া বিশ্বকাপ যারা কাঁপাবেন, কেমন ছিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ দেখার অভিজ্ঞতা? নেইমার, জেসাস, ফ্যালকাও, পগবা ও আলকানতারা ফিফার ওয়েবসাইটে বিশেষ সাক্ষাতকারে তুলে ধরেছেন সেই অমলিন স্মৃতির কথা-
নেইমার (ব্রাজিল)
১৯৯৮ সালের সামান্য ঘটনা আমার মনে আছে। যদিও তখন আমার বয়স ২ বছর। টিভিতে ব্রাজিলের ম্যাচ দেখেছিলাম। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে রোমারিও গোল করেছিল। মনে আছে, বেবেতো বল ক্রস করেছিল, বল ধরেই গোল করেছিল রোমারিও।
গ্যাব্রিয়েল জেসাস (ব্রাজিল)
গত তিনটি বিশ্বকাপে আমি ফাবেলার রাস্তায় রাস্তায় রং করে বেড়াতাম। ওইভাবেই বিশ্বকাপ সেলিব্রেট করতমা। রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছি। এবার সবকিছু ফিরিয়ে দেয়ার সময় এসেছে।

লুকা মডরিচ (ক্রোয়েশিয়া)
১৯৯৮ সালে আমার বয়স ছিল ১৩ বছর। জাদার শহরে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে মিলে ম্যাচ দেখতাম। একের পর এক ম্যাচ জেতায় সবাই আমার দেশকে চিনতে শুরু করে। ওখান থেকেই আমার স্বপ্ন দেখা শুরু।

পল পগবা (ফ্রান্স)
১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-০ গোলের জয়টা আমার প্রথম ফুটবল স্মৃতি। তখন আমার বয়স ছয় বা সাত। ফ্রান্স ম্যাচ জেতার পর সবাই বাড়ির বাইরে বেরিয়ে পড়েছিলাম। মনে আছে, বাবা বাড়ি ফেরার পর আরও বেশি সেলিব্রেশন হয়েছিল। দেশের জয় গাড়ির উপর উঠে সেলিব্রেট করেছিলাম।
থিয়াগো আলকানতারা (স্পেন)
১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্বকাপ দেখা শুরু করি। আমার বাবা (ব্রাজিলের মাজিনহো) কাপটা জিতেছিল। তখন বয়স ছিল মাত্র তিন। মনে আছে, বাবা বাড়ি ফেরার পর দারুণ সেলিব্রেশন হয়েছিল। ২০১০ সালে স্পেন-নেদারল্যান্ডস ম্যাচটাও মনে আছে। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলে বিশ্বকাপটা জিতেছিলাম আমরা। তখন আমি স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ফুটবলার।
হাভিয়ের হার্নান্দেজ (মেক্সিকো)
১৯৯৮ সাল থেকে বিশ্বকাপ দেখছি। ওই বিশ্বকাপে আমার আইডল রোনাল্ডো খেলেছিল। মনে আছে, খেলা দেখার জন্য আমি প্রতি ম্যাচের দিনই স্কুল থেকে পালিয়ে বাড়ি আসতাম।

রাদামেল ফ্যালকাও (কলম্বিয়া)
১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের টুকরো স্মৃতি মনে আছে। তখন মাত্র চার বছর বয়স। তারপরও জার্মানির বিপক্ষে ফেদি রিস্কনের গোলটা মনে আছে। কলম্বিয়ার সবাই গোলটা সেলিব্রেট করেছিল। পরের বিশ্বকাপ ছিল ১৯৯৮। ফলে ওই গোলটা বারবার দেখতাম।
হ্যারি কেন (ইংল্যান্ড)
২০০২ সালের বিশ্বকাপটা খুব ভালোভাবে মনে আছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোনালদিনহোর টপকর্নার থেকে করা গোলটা আজও মনে আছে। ওটা এখনো আমাকে কষ্ট দেয়। তখন থেকে ভাবতাম দেশের হয়ে কবে বিশ্বকাপ খেলব।

জুলিয়েন ড্রাক্সলার (জার্মানি)
২০০৬ সাল থেকে বিশ্বকাপ দেখছি। ওই বিশ্বকাপটা হয়েছিল জার্মানিতেই। পরিবারের সঙ্গে বিশ্বকাপের সবকটা ম্যাচ দেখেছি। আসলে জার্মান দল যেভাবে খেলেছিল, তাতে পুরো দেশই উত্তাল হয়ে উঠেছিল। প্রতিটি ম্যাচই ছিল সেলিব্রেশন করার মতো।
ইগোর আকিনফিভ (রাশিয়া)
১৯৯৪ সালে আমেরিকায় থাকতাম। তখন থেকেই বিশ্বকাপ দেখা শুরু। তখন থেকে ফুটবলটা বুঝতে শুরু করি। ক্যামেরুনের সঙ্গে রাশিয়ার ম্যাচটা এখনও মনে আছে। ৬-১ গোলে আমরা জিতেছিলাম। ওলেগ সালেস্কো একাই ৫ গোল করেছিল।

সন হিউংমিন (সাউথ কোরিয়া)
২০০২ সালে স্পেনের বিপক্ষে সাউথ কোরিয়ার টাইব্রেকার মনে আছে। সেমিফাইনালে ওঠার পর পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। কেউ ভাবেইনি এমনকিছু হতে পারে। পুরো টুর্নামেন্ট দলের লাল জার্সি গায়ে জড়িয়ে খেলা দেখেছিলাম।

আলিরেজা জানাবক্স (ইরান)
২০০৬ সালের বিশ্বকাপটা ইরানে বসে পরিবারের সঙ্গে দেখেছিলাম। ওই সময় আমার বাবা আমাকে বলেছিলেন, আমার একটা স্বপ্ন, তোমাকে একদিন যেন বিশ্বকাপ খেলতে দেখি। আমি তখন খুব ছোট। কিছুই বুঝিনি তখন। তবে বাবার স্বপ্নটা আমাকে ছুঁয়ে গিয়েছিল।









