শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বই পড়তে উৎসাহিত করা এবং একটি উন্নত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রত্যন্ত গ্রামে ‘পদ্মা লাইব্রেরী’ নামে একটি নতুন লাইব্রেরী উদ্বোধন হয়েছে।
শনিবার লাইব্রেরীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডক্টর বিশ্বজিৎ ও ভারতী ফেলোশিপ বৃত্তি-ও প্রদান করা হয়।
অনলাইনে অংশ নিয়ে লাইব্রেরীর শুভ উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস) ডঃ অঞ্জন কুমার দেব রায়, পিএইচডি (অস্ট্রেলিয়া)।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র পুলিশ সুপার (সিআইডি) বিজয় বসাক।অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা শামসুজ্জামান দুলাল, জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান লিটন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয় প্রাথমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ অনেক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এতে কয়েকজন কৃতি শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারকে ভূষিত করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাদের আত্মার শান্তির জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের প্রভাষক ডালিম কুমার রায়।
ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করবে, সমাজের সুনাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে কিন্তু অর্থনৈতিক কারণে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারছে না, এমন দুজন শিক্ষার্থীকে ডক্টর বিশ্বজিৎ এবং ভারতী অধিকারী ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডক্টর অঞ্জন কুমার দেব রায় বলেন, একটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য জ্ঞান আহরণের বিকল্প নেই আর এই জ্ঞান আহরণের অন্যতম কেন্দ্র গ্রন্থাগার। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজয় বসাক বলেন, একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মোবাইলের আসক্তি থেকে বেরিয়ে নিয়ে আসতে হবে এবং তাদেরকে গ্রন্থাগারমুখি গড়ে তোলার চর্চা করতে হবে। স্বাধীনতা দিবসের দিনে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
পদ্মা লাইব্রেরীর শুরুর কথা
বই পড়ি, উন্নত সমাজ গড়ি। এই শ্লোগানকে সামনে রেখে যাত্রা শুরুর পদ্মা লাইব্রেরীর। বাংলাদেশের উত্তরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামে প্রত্যন্ত অজপাড়া-গাঁয়ে প্রতিষ্ঠিত এই গ্রন্থাগারটি। গ্রন্থাগারটি নামকরণ করা হয়েছে ‘পদ্মা লাইব্রেরী’। পদ্মা অক্ষর জ্ঞানহীন গ্রামবাংলার একজন অতি সাধারণ নারী। যিনি চোখ থাকতেও অন্ধ। পদ্মা রানীর মত হাজার হাজার অক্ষর জ্ঞানহীন নারী গ্রাম বাংলায় রয়েছেন, যারা নিজেদেরকে চোখ থাকতেও অন্ধ ভাবেন। পারিবারিক, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট এবং নানাবিধ কারণে হয়তো এ সকল নারীরা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু তাই বলে একটি পরিবারে এই সকল নারীদের অবদান কোন অংশেই কম নয়।
পদ্মা একটি প্রতীকী নাম। হাজার হাজার পদ্মা নীরবে নিভৃতে তাদের পরিবারের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন দিনরাত। নাম না জানা এরকম হাজারো পদ্মার প্রতি শ্রদ্ধা এবং সম্মান রেখেই গ্রন্থাগারটির নামকরণের সিদ্ধান্ত। আমাদের আশে পাশে একটু তাকালেই দেখতে পাবো নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। নানা রকম খারাপ নেশায় আসক্ত তরুণ সমাজ। সংস্কৃতি চর্চা, খেলাধুলা কিংবা জ্ঞান আহরণ সবকিছু থেকেই বর্তমানে তরুণ সমাজ ধীরে ধীরে দূরেচলে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে গ্রন্থাগারমুখী করতে পারলে হয়তো ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে মানসিকতার বিকাশ ঘটানো সম্ভব।
প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষকে গ্রন্থাগারমুখী করে তোলার চেষ্টা করা হলো এই পদ্মা লাইব্রেরীর অন্যতম উদ্দেশ্য । তরুণ সমাজ গ্রন্থাগারে যাবে, নিজে বিকশিত হবে, সময়োপযোগী নির্ভরযোগ্য তথ্য খুজে নিবে, ভালো ভালো জ্ঞানের বই পড়বে, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করবে, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস জানবে, এলাকা তথা দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিজেদেরকে যোগ্য সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে এই লক্ষ্য নিয়েই গ্রন্থাগারটির পথ চলা।










